প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি’র রাজনীতি করার কারণে, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি। বৃহস্পতিবার, শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে, বিগত সরকারের আমলে কারা নির্যাতিত নেতাদের সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি জেল জীবনের দিনগুলো স্মরণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
শ্রীপুর পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে তিনি কয়েকবার কারাবরণ করেছেন এবং হয়েছেন কয়েক ডজন মামলার আসামি। তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনের রোষানলে পড়েছিলেন, যেখানে তাকে গ্রেফতার করে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন।
গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সরকার যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে ৫১টি মামলার আসামি হয়েছিলেন তিনি। কয়েক ধাপে জেলে কাটিয়েছেন মোট ১৮৬ দিন।
আরিফুল ইসলাম সরকার জানালেন, কন্যা সন্তানের জন্মের খবর তিনি শুনেছিলেন কারাগার থেকেই, তিনি সেই সন্তানের মুখটা দেখেছিলেন কারাগারের ভেতর থেকেই। গ্রেফতার হওয়ার পরপরই তাকে টর্চার সেলে নেয়া হয় এবং সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার। ২০২৩ সালে বিএনপির ডাকা হরতালের সময় শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ অবরোধ তৈরি করেন। এ ঘটনায়, একই বছরের ২ নভেম্বর রাতে, ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে র্যাব-১ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয় তাকে।
এসময়, বিএনপি আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিল র্যাব সদস্যরা। কোন তথ্য না পাওয়া গেলে, আক্রোশের বর্শবর্তী হয়ে সেখানকার একটি কক্ষে দুইদিন ধরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিশালায় থাকতে, মাঝে মধ্যে এক বেলা কখনো দুই বেলা খাবার দেওয়া হতো। প্রায় পাঁচ মাস পর, তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বিল্লাল হোসেন বেপারী, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অ্যাডভোকেট আবু জাফর, অ্যাডভোকেট আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল বেপারী, মামুন আকন, মোক্তারুল করিম মোড়ল শামীম প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন