প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের মধ্যে দুটি দফায় যে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, তার রেশ একপ্রকার শেষ হতে না হতেই, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই ভূমিকম্পের জন্য কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) উল্লেখ করেছে, ভূমিকম্পটির শক্তি ছিল ৭.২। এটি ইওয়াতে প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলের কাছে আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৯ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু পরে তা সংশোধন করে ৭.২ করা হয়। এ বিষয়ে এপি বিশদ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ অঞ্চলটি একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহ ব্যাপী 'মেগা-ভূমিকম্প সতর্কতা' জারি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালের ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের সামনে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া দল 'মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব' দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোমোকো নাগানে জানান, ভূমিকম্প সতর্কবার্তা জারি হওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মাঝারি মাত্রার দুলুনি অনুভব করেছিলেন। স্কুলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকলেও অনেক শিশু আতঙ্কে কেঁদে ফেলেছিল। পরে দিনের সব ক্লাস বাতিল করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়।
জাপানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে-এর ফুটেজে সেনদাই ও মরিওকাসহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শহরের সাংবাদিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, কিছু মিনিট ধরে কম্পন অনুভব করার পরও কোনো ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়েনি। ফুটেজে মানুষদের স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী কিছু বুলেট ট্রেন ও স্থানীয় রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি। কর্মকর্তারা রেলপথ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: এপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন