প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই নগর গঠন আলাদা করে সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদেরও তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, এই শহর আমাদের। শহরকে বাসযোগ্য ও টেকসই করে গড়ে তুলতে সরকার এবং জনগণকে মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ‘জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয় : জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই নগর তৈরীতে করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং কোথাও কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিনের ব্যবহার রোধে চেষ্টাসমূহ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে, দুই শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছে। বৃক্ষরোপণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে নগরকে আরও সহনশীল ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা। একদিকে খাল ভরাট হচ্ছে, অন্যদিকে আমরা নিজেরাই ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলছি এবং ডাস্টবিনে না ফেলে প্রায়শই ফেলে দিচ্ছি। ফলে ড্রেন ও খাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ন, সবুজায়ন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশ শিক্ষা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের কথা শোনা এবং সেই সমস্যা বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে তুলে ধরা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধুমাত্র প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং মানুষের অংশগ্রহণ।
তিনি তখাল খননের পাশাপাশি সেগুলো সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী শাহ ইসরাত আজমেরী। সভায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন