প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার সাঘাটায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে শিবির কর্মী সালাউদ্দিন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ তিনি মারা যান।
এর আগে চলতি বছরের ২১ জুন বিকেলে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে সালাউদ্দিন আহত হন। একই ঘটনায় ওইদিন সাইফুল ইসলাম নামের এক শিবির নেতা মারা যান। সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি বোনারপাড়া শিমুল তাইড় গ্রামে, এবং তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাঘাটার উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়কের মুকুলের মধ্যে একটি বাগবিতণ্ডা ঘটে। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যান।
এ ঘটনার কিছু মিনিট পর, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, যুবদল নেতা মোনারুল এবং জব্বারসহ ১২ থেকে ১৩ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে।
এক পর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাস্তার উপর ফেলে তার গলায় আঘাত করে। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেন। এখানে শিবির নেতা সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনার পর, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন