প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দু'পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ে এক সপ্তাহ আগে। हाल ही में তোলা। ছবি: সংগৃহীত। এরই মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক খুলে ধসে গিয়ে খালে পড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে সড়কটির সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত এই সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের ব্যাখ্যা মতে, টানা বৃষ্টির কারণে এবং মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির প্রবাহের ফলে এক সপ্তাহ আগে উপজেলার রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের উপর বোবারপুল সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কটি ধসে যায় এবং খালে পড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, রামগতি-বয়ারচর সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এটি ফলে সমস্যায় পড়েছে চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচরসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকার মানুষ। একদিকে, সড়কটির ব্রিজঘাট এলাকাস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে অন্য একটি সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কটি পাকা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে সড়কটির দ্বিতীয়বার সংস্কার করা হয়। এখন সড়কের বাকি অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কারণ এখানে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ায় সেতুর দুই পাশ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ সেতুটির দুই পাশে গাছের ডাল বসিয়ে রেখেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের স্রোতে যে কোন সময় সড়কের বাকি অংশও ভেঙে পড়তে পারে। অন্যদিকে, এলাকার প্রধান সড়কটি ভেঙে পড়ায় বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, তারা এই সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়া বাজার ও রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। এর পাশাপাশি, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি এবং মোটরসাইকেল নিয়মিত চলাচল করতো। সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে কোনো বিকল্প পথ না থাকায় তারা যাতায়াতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলল হোসেন জানিয়েছেন, এক মাসের টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। এটি কারণে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে আশপাশের কিছু গ্রামের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেছেন, এক সপ্তাহ ধরে বয়ারচরের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমি নিরুপায় হয়ে নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালির মাধ্যমে চলাচলের চেষ্টা করছি। রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত এবং টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে গেছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন