প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে আরব দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও, দেশটির ফিলিস্তিনি ও আরব নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তির পরিবর্তে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব ভোটাররা রেকর্ড হারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলেও, ইসরায়েলি রাজনীতির জটিল সমীকরণে এই আসনগুলো কি সত্যিই নেতানিয়াহুর বিদায় নিশ্চিত করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার (৬১ আসন) তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলনেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির এবং আরব দলগুলোর আসন মিলিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা (প্রায় ৬৭ আসন) দাঁড়িয়েছে। এই রাজনৈতিক পটভূমিতে আরবদের ভূমিকা এখন সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
তবে, আরব ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সংশয়ের মূল কারণগুলো হলো: ইহুদি বিরোধী দলগুলোর দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আইজেনকোটসহ মূলধারার বিরোধী নেতারা নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সরকার না গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আরব দলগুলোর সরাসরি সমর্থন গ্রহণ করলে ডানপন্থী ইহুদি ভোটারদের ক্ষোভের মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা।
নেতানিয়াহুর কড়া প্রচারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলে আক্রমণ করছেন, যা ইহুদি বিরোধী দলগুলোর ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে।
আরব দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও একটি সমস্যা। ‘জয়েন্ট লিস্ট’ আইজেনকোটের সঙ্গে কাজ করে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব দিলেও, মনসুর আব্বাসের দল ‘রাম’ তাদের সব পথ খোলা রাখছে।
আরব দলগুলোর প্রাপ্ত ১৯টি আসন নেতানিয়াহুর পথকে কঠিন করে দিলেও, বিরোধী দলগুলো তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে জোট বাঁধবে কি না অথবা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ফের কোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও পুনর্নির্বাচনের দিকে যাবে কি না, তা দেশটির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সূত্র : হারেৎজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন