প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরের দিকে নজর দিচ্ছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বরং অন্যান্য দেশও। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ সফরটি শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, বরং ঢাকার ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও, সফরের সময় প্রাধান্য পাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং চীনা বিনিয়োগের বিষয়গুলো।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে চারদিনের সফরে বেইজিং পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে এটাই তার প্রথম সফর। নানা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি একান্ত বৈঠকও করবেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। এ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুমুখী কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন পথ খুঁজছে।
এ মধ্যে, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে। ফলে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠছে—ঢাকা আসলে কী চাইছে? আর বেইজিং কী বার্তা দিতে চাইছে?
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে দু'দেশ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, সফরের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি সমাধান হবে। এ সম্পর্কে একটি চুক্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চীনের সঙ্গে একটি বড় সম্পর্ক গড়ার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণাও করা হয়েছে। তবে চীন সম্পর্ক গড়ার জন্য প্রস্তুত হলো।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এবং আঞ্চলিক শক্তির নতুন সমীকরণ নিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়েও নজর থাকবে অন্য দেশেরও।
মোহাম্মদ সফিউল্লাহ আরও বলেন, সম্পর্ক গড়ার প্রচেষ্টা থাকতে হবে, যাতে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং প্রতিরক্ষা নীতির মাধ্যমে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক যে জটিল কাঠামো গঠন হয়েছে, এটি সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। যদি কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়, তবে অন্য দেশের সঙ্গেও একই বিষয়ে স্পষ্টভাবে চুক্তি করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ কতটা অর্জিত হয়েছে, তার ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন