প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, 'সরকার ইতোমধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।'
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃত্রিম মোড়কের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে সরকার নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যোগ করেন, পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার পাট আইন, ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতি, ২০২২ প্রণয়ন করেছে। বিশেষভাবে, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার পিএলসি (জেডিপিসি)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের জন্য উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে 'উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ' প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, পাটপণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে 'জুট প্রোডাক্ট কর্নার' স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পাট অধিদপ্তর এবং জেডিপিসি যৌথভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করছে, যাতে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে ২০২০ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ইজারা দেওয়া মিলগুলোর মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন