প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের আমদানিপণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা করেছে। এই শুল্কনীতি আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে এএফপির মাধ্যমে।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ শুল্কের আওতা থেকে কিছু পণ্য বাদ রাখা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে গোশত, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ। এছাড়া, যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত নয়, সেগুলোও এ শুল্কের বাইরে থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের কারণে মার্কিন কর্মী ও উৎপাদকরা গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকারের থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এই তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মার্কিন তদন্তে ব্রাজিলের কিছু নির্দিষ্ট নীতিকে ‘অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক এবং মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করার পর, ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় ব্রাজিলের উপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছর আরও বেশ কিছু দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ব্রাজিলের ক্ষেত্রে মূলত ডিজিটাল বাণিজ্য ও দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্সের’ কারণে তৈরি হওয়া ‘অন্যায্য’ প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা দাবি করেছেন, পিক্সের মতো ব্যবস্থার জন্য মার্কিন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, আলোচনা খোলা রাখলেও নিজেদের উদ্বেগের দ্রুত সমাধান চায়। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল যেভাবে মেক্সিকো ও ভারতকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দাবি করছে। তবে এই সেকশন ৩০১ তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে— এমন সমালোচনা মার্কিন কর্মকর্তারা নাকচ করেছেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই ঘোষণার পর ব্রাজিলের কাছ থেকে পৃথিবীতে পালটা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা আশা করছে না, তথাপি তারা সতর্ক করেছে যে কোনো পালটা চাপ আসলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
যদিও সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। চলতি মাসে ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরয়ের কার্যালয়ে গণশুনানিতে ব্রাজিলের অনুদারপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো নতুন এই শুল্ক আরোপ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লাভিও বলেন, নতুন শুল্কের কারণে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এ গণশুনানিতে আরও অনেক প্রতিনিধি অংশ নেন। গত বছর জাইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান চেষ্টার বিচারের জেরে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর তীব্র শুল্কারোপ করেছিল এবং বর্তমানে বলসোনারো ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। পরে দুপক্ষের আলোচনার পর লুলার কূটনৈতিক সাফল্যে সেই শুল্কের বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে নতুন ২৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আবারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন