প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পর তিনি দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। চারপাশ থেকে সতীর্থরা ছুটে এলেন। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ তাকে কাঁধে হাত রাখলেন। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার চোখের পানি তখন শুধুই আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গর্বের মুহূর্তের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। আর এই অবিশ্বাস্য ফলের নেপথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নায়ক হলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় অঘটনের পেছনে প্রায়ই দেখা যায় কোথাও না কোথাও অপ্রত্যাশিত একটি নায়ক। এবারের ম্যাচে সেই ভূমিকায় রত ছিলেন ভোজিনহা। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ তিনি ঠেকিয়ে দিয়েছেন এবং দলের রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ফেরান তোরেস, পেদ্রি ও আইমেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের সুযোগ তিনি নষ্ট করে দিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।
ভোজিনহার প্রকৃত নাম হল জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। কিন্তু ফুটবল জগতের কাছে তিনি পরিচিত 'ভোজিনহা' নামটি দিয়েই। পর্তুগিজ ভাষায় এই নামটির মানে 'ছোট দাদি'।
শৈশবে তার বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং তার মা কাজের ব্যস্ততায় ছিলেন। সেই কারণে জীবনের বড় এক অংশ তিনি দাদা-দাদির সাথে কাটিয়েছেন। সেই থেকেই তার ডাকনাম হয়ে গেছে 'ভোজিনহা'।
কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে শহর থেকে তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয়। পরে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার পরও তিনি নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে 'ভোজিনহা' নামটিই ধরে রেখেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যখন আমি অ্যাঙ্গোলায় খেলতে যাই, তখন সেখানে জোসিমার নামের আরেকজন গোলরক্ষক ছিল। তখন আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে, জার্সিতে 'জোসিমার-২' লিখব না। কেপ ভার্দেতে সবাই আমাকে ভোজিনহা নামেই চিনতো, তাই সেই নামটাই আমি ধরে রেখেছি।
বর্তমানে তিনি পর্তুগালের ক্লাব ক্লাব শ্যাভেসের হয়ে খেলছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কেপ ভার্ডে, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন এই গোলরক্ষক।
বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই তিনি আলো ছড়িয়ে বলেন, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার। আমি কেঁদেছি কারণ আমার দাদা-দাদি আজ আর বেঁচে নেই। তারা আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন।
মায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ভিসা জটিলতার কারণে তার মা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আমার মা এখানে থাকতে পারেননি। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সময়মতো সবকিছু করা সম্ভব হয়নি।
স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহার রাতারাতি জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অনেক পরিচিত মুখ। পল পগবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক সত্যিই অবিশ্বাস্য, ওয়াও!
অন্যদিকে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সন বলেছেন, আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। এই একটি পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল। আজকের রাতটা শুধু তাদের জন্য। ভোজিনহাকে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরও প্রায় কান্না চলে আসছিল।
স্পেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, এটি কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক নাম, ভোজিনহা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন