প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার (১২ জুন) প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই আহ্বানটি উচ্চারণ করা হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দুই পক্ষ থেকে প্রায় ২৫০ জন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ফ্রান্স এই উদ্যোগকে সামনে নিয়ে আসে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও শান্তির প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখার উদ্দেশ্যে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো মন্তব্য করেন, ‘আমরা পৃথিবীতে যুদ্ধ থেকে সরে আসার অসংখ্য কারণ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু আপনারা এখানে আছেন, আপনাদের উপস্থিতিই আশা ও পদক্ষেপের ভিত্তি।’ তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স যুদ্ধের বিরুদ্ধে রয়েছে, বরং শান্তির পক্ষে অবস্থান নিতে চায়।
এই বৈঠকের ফলে একটি আট দফার ‘কল ফর অ্যাকশন’ বা কার্যকর পদক্ষেপের প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা, গাজা পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই আহ্বানটি আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের আल्पস অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখনও চলমান থাকলেও কূটনৈতিকভাবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়ে উঠছে।
এদিকে গাজার অবরুদ্ধ এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রতিদিনই নৃসংশতা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এক রাতেই তারা ১৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে গাজার অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে ইসরাইল।
কথিত যুদ্ধবিরতির আড়ালে গাজায় ইসরাইলি হামালা এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আল-মাওয়াসি বাস্তুচ্যুত্য শিবিরে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে যখন তিনি নিজ তাঁবুর সামনে সকালের কফি খাচ্ছিলেন।
ইসরাইল তাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করলেও, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই জনাকীর্ণ ক্যাম্পে কোনো সামরিক তৎপরতা ছিল না। একই দিনে দেইর আল-বালাহতে একজন কিশোরসহ আরও কয়েকজনকে আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাদের গাজা থেকে ধাপে ধাপে পিছু হটার কথা থাকলেও, তারা বাস্তবে ভূখণ্ডটির আরও গভীরে প্রবেশ করছে। ‘ইয়েলো লাইন’ বা বিভাজন রেখা সম্প্রসারণ করে ইতোমধ্যে গাজার অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
এমনকি ইসরাইল সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে আরো বৃদ্ধি করতে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গাজার লাখ লাখ বাসিন্দার মানবিক দায়িত্ব না নিয়ে কৌশলগত নিরাপদ অঞ্চল তৈরি এবং গাজাকে ফিলিস্তিনি শূন্য করার দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে ইসরাইল।
হামলা ও উচ্ছেদের পাশাপাশি গাজাবাসীদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে ত্রাণের গাড়ি আটক করে রাখা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুসারে প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাক ত্রাণ ঢোকার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কম ঢুকছে। ফলে বেশিরভাগ মানুষ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে পচে যাওয়া লাশ ও ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বেশিরভাগ আশ্রয়শিবিরে ইঁদুর ও চর্মরোগের মহামারি দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুনভাবে তাণ্ডব ও উগ্র হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে দেইর আবু মিশাল গ্রামে লাঠি, ছুরি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন