প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোবাশ্বের হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠুকে (২২) আদালত সম্মিলিতভাবে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার সঙ্গে আরো ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসাইন মুহম্মদ ফজলুল বারী রায়টির ঘোষণা দেন।
আদালতে রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় সিয়ামকে শিশু অপহরণের দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে তার জন্য আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও রয়েছে, এবং অনাদায়ে সেখানে ৬ মাসের কারাদণ্ডও দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠু পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া এলাকার আশিকুর রহমান স্বপনের ছেলে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ মে দেবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আলম হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোবাশ্বের হোসেনকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের একটি বেতবাগানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মিঠু। ঘটনাটির আগে স্থানীয় কয়েকজন শিশুটিকে তার সঙ্গে যেতে দেখেছিলেন।
পরে, শিশুটির বাবা আলম হোসেন প্রথমে দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ১০ মে তিনি সিয়াম আহম্মেদ মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মিঠুকে গ্রেপ্তার করার পর, তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা আলম হোসেন বলেন, ‘মিঠু আমাদের প্রতিবেশী ছিল। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন সেও আমাদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করেছে, মাইকিং করেছে। কখনো ভাবিনি সেই-ই আমার সন্তানের ঘাতক। দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের রায়ে আমরা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায়। আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।’
দীর্ঘ ছয় বছর পর আলোচিত এই মামলার রায়ে নিহত শিশুর পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে, তবে তাদের মতে, হারানো সন্তানকে কোনো রায়ই ফেরত দিতে পারে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন