প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ী, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং সেগুলো জনগণের কল্যাণে বাস্তবায়িত হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা এবং সদর উপজেলা পর্যায়য়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হতো। বর্ষা মৌসুম এলেই প্রকল্প গ্রহণ করা এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পর তা শেষ হয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রকল্পের আওতায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে কোমলমতি শিশুদের আত্মবিকাশের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির মাধ্যমে খেলাধুলা, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে সম্প্রসারণ করে দেশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে ক্রীড়ার বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এ কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে সৃজনশীল এবং জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। তাই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার সরকারে অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামও তার বক্তব্য প্রদান করে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। একই সাথে রাজবাড়ীর প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু করার এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।
পরে, সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অতিথিরা। এ সময় জেলার ১৮১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাট, বল, ঢোল, ডুগি, হারমোনিয়াম, ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন