প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পর সংঘাত বন্ধে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
গতকাল রবিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ প্রতিরক্ষা বৈঠক শেষে এই তিন দেশের শীর্ষ নেতারা সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। তবে ক্রেমলিন এই আলোচনার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেলেনস্কি ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে আলোচনা করেছেন। বৈঠক শেষে বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং পরবর্তী শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবকে নেতারা সমর্থন জানান।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনার শুরু হিসেবে যুদ্ধের ‘বর্তমান যোগাযোগ রেখা’ বা নিয়ন্ত্রণ রেখাটিকেই ভিত্তি ধরা উচিৎ।
নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত কখনোই জোর করে পরিবর্তন করা যাবে না।
এর আগে, এই গত বৃহস্পতিবার এক চিঠির মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। কিন্তু পুতিন এই প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছেন। পুতিন জানান, একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত না হলে জেলেনস্কির সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য কোনো যৌক্তিকতা তিনি অনুভব করছেন না।
পুতিনের কাছে নিজের কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে আলাদা একটি কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। রবিবার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, পুতিনের কাছে বার্তা পাঠাতে তিনি কিয়েভে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আব্রামোভিচ রয়েছেন।
আব্রামোভিচের মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভূখণ্ডেই আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু আমরা আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যাব না, আমরাও আপনাদের কোনো বিজয় অর্জন করতে দেব না।’ একই সঙ্গে তিনি পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুরোধটি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও গোলাবারুদ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আসছে কিয়েভ। জেলেনস্কি এখন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার জন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নানা উপায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন