প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করার জন্য পুলিশের বিশেষায়িত দুটি ইউনিট, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এটিইউর নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) করা হবে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি) রাখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে।
গত ৭ জুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। পরের দিন, ৮ জুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো এক পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা যে মূল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে, তা বহাল থাকবে।
তিনি আরও জানান, এটিইউ ও সিটিটিসির নতুন নামকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরনগুলোর পরিবর্তন ঘটেছে। এজন্য প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের গোপন 'স্লিপার সেল'-এ যুক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এসব পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, 'স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট' নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে এটিইউ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এরপর থেকে সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিটগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন