প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবারের কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি আজ দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়ন কমিটির দ্বিতীয় ফলোআপ সভার পর এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
এম এ মুহিত দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীবান্ধব করার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিজন প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য ‘আলাদা ফাইল’ খোলা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন নিশ্চিত হয়। হুইলচেয়ার নিয়ে সহজে ওঠা যাবে ইভি বাসে। প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এটি জানিয়েছেন তিনি, যে এই প্রক্রিয়ার নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিশুস্বর্গ’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান তাঁর উপস্থিতিতে এই মানবিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে কড়াইল বস্তির প্রায় ১ হাজার প্রতিবন্ধী শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেই ‘শিশুস্বর্গ’ কার্যক্রমকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রেফারাল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, যখন আমরা মাঠ পর্যায় থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খুঁজে বের করব, তখন প্রত্যেক প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য আলাদা ফাইল খোলা হবে।
সেখানে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো লিপিবদ্ধ থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
এম এ মুহিত আরও বলেন, সরকারের যেকোনো অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। নতুন নির্মিতব্য ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের জন্য র্যাম্প, লিফট এবং অন্তত একটি বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রকল্প মূল্যায়নের সময় প্রতিবন্ধীবান্ধব বিষয়টি কড়াভাবে যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, দেশে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎচালিত ইভি বাস চালুর উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের সুবিধার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে চালু হতে যাওয়া ইভি বাসগুলোতে যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজ বে আসতে পারেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানালেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ একটি আলাদা সেগমেন্ট রাখা হবে।
স্পেশাল অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে দেশের গৌরব বয়ে আনা সফল প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এবং এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির যত্ন নিচ্ছে।
এছাড়া সাধারণ স্কুলে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা এবং ইনক্লুসিভ স্কুলের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বিষয়গুলোকে কেবল ‘চাহিদা’ হিসেবে না, বরং এগুলো তাদের ‘অধিকার’ হিসেবে দেখছি। প্রতিটি মন্ত্রণালয় উচিত অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতো প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করতে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল জানান, প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা কোনও দয়া নয়। বরং একটি রাষ্ট্রের সাথে তার নাগরিকদের যে সামাজিক চুক্তি থাকে, সেই অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে এটি তাদের অধিকার। আমরা সেই অধিকার নিশ্চিত করার কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমরা একটি সমন্বিত ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণনের সুবিধা থাকবে।
সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন