প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস। সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সুইডেনের সহায়তা চেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষ এবং বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা এবং প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির জন্য স্বীডেন সরকারের নিবিড় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন মন্ত্রী।
আলোচনাকালে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সাথেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে এবং রেডিমেড গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি এও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছে, যাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেছেন, অসাধু মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।
মন্ত্রীর জবাবে তিনি বলেছেন, মানব পাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় অত্যন্ত কঠোর এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনই এ সমস্যার প্রধান কারণ। এই সমস্যা দূরীকরণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সাথে সমন্বয় করে দেশব্যাপী গণসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হওয়ায় বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় মন্ত্রী বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করেন।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করতে সুইডিশ আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী এ সময় মিয়ানমারে সম্মানজনক এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন