প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে এবার ৫৫তম বারের মতো ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস আয়োজন করতে যাচ্ছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। আয়োজকরা আশা করছেন, ২৬ আগস্টের এ জুলুসে ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আগামী ২৩ আগস্ট রোববার ঢাকায় এবং ২৬ আগস্ট বুধবার চট্টগ্রামে বড় আয়োজনের সঙ্গে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামের জুলুসে নেতৃত্ব দিতে আসছেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাহেবজাদা হজরত সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ (ম.জি.আ)।
আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও জশনে জুলুস জনসমুদ্রে রূপ নেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, জুলূসে অংশগ্রহণকারী মানুষের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করতে হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দিয়েছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ¦ মনজুর আলম। তিনি উল্লেখ করেন, রাসুল (দ.)-এর ধরাপৃষ্ঠে শুভাগমনের দিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ জুলুস বিশ্বের বৃহত্তম মিলাদ শোভাযাত্রা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারকেরূপে তৈরি হয়েছে। তাই এটি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
তিনি জুলুসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা এবং আনজুমান ট্রাস্টের ঘোষিত নিয়মাবলী মেনে চলার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, ২৬ আগস্ট সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে জুলুস শুরু হবে। এরপর নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় প্রদক্ষিণ করে জুলুস জামেয়া মাঠে এসে শেষ হবে। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় পুলিশসহ আনজুমানের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। জুলূসে ড্রামসেট নিয়ে প্রবেশ, নারীদের অংশগ্রহণ এবং খাদ্যদ্রব্য নিক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জুলুসকে ঘিরে ইতোমধ্যে নগরের বিভিন্ন মোড়ে সুসজ্জিত তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। সড়ক বিভাজক ও সড়কদ্বীপে জাতীয় পতাকা এবং আনজুমানের পতাকা প্রদর্শিত হচ্ছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।
আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) ১৯৭৪ সালে এ জুলুসের প্রবর্তন করেন। এবার ৫৫তম বারের মতো জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য বক্তব্যদানকারীদের মধ্যে ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দিন সাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারি কামরুদ্দিন সবুর, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি গোলাম মহিউদ্দিন, কেবিনেট সদস্য মোহাম্মদ হোসেন খোকন, আনজুমান মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, এবং মিডিয়া ডেস্কের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তালেব বেলাল প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন