প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন কন্যা সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার একটি পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতের প্রায় ১০টায় জানাজা শেষে পৌরসভার নটিয়া এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফনের আগে যখন নিহতদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সবার মধ্যে একটাই প্রশ্ন ছিল—নিষ্পাপ শিশুদের অপরাধ কী ছিল?
পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ হোসেন সিফাত তার কান্না নিয়ে উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। স্বজনরা জানান, তিনি বারবার বলছিলেন, 'এখন আমাকে কে দেখবে? সাত বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। মা আর বোনদের নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন ছিল। আজ সবাই চলে গেল।'
বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় সড়কের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে সন্দেহভাজন একজনকে দেখতে পান এবং বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এর পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবনের ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার আগে একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, বাসাভাড়ার টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার নিহত শাহিনুর বেগমের কাছে জমা ছিল। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে রায়পুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন