প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহাকাশবিজ্ঞানীরা সৌরজগতে এমন একটি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন, যা সূর্য বা পৃথিবীর চেয়েও অনেক পুরোনো হতে পারে।
অন্য নক্ষত্রমণ্ডল থেকে আমাদের সৌরজগতে আসা এই বিরল বস্তুটি হলো ‘থ্রিআই-অ্যাটলাস’ নামের একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু (সৌরজগতের বাইরের ধূমকেতু)। এটি কোটি কোটি বছর আগের গ্যালাক্সির (ছায়াপথ) এক অজানা ইতিহাস আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই ধূমকেতুটির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সূর্যের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভেতরের প্রাচীন বরফ গলে উজ্জ্বল গ্যাসে পরিণত হয়। তখন এটি পর্যবেক্ষণের এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। নাসার অর্থায়নে চলা ‘অ্যাটলাস’ টেলিস্কোপ এটি প্রথম শনাক্ত করে। এটিকে সৌরজগতের বাইরে থেকে আসা তৃতীয় ধূমকেতু হিসেবে নিশ্চিত করা হয়, যার কারণে এর নাম রাখা হয় থ্রিআই-অ্যাটলাস।
গবেষণার ফলে দেখা গেছে, এই ধূমকেতুতে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা আমাদের সৌরজগতের কোনো ধূমকেতুতে পাওয়া যায় না। বিজ্ঞানীরা নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে এতে ডিউটেরিয়ামের বিশাল উপস্থিতি পান। সাধারণ ধূমকেতুর তুলনায় এতে ভারী হাইড্রোজেনের মাত্রা প্রায় ৩০ গুণ বেশি। এছাড়া, এতে কার্বন-১২ এর তুলনায় কার্বন-১৩ এর পরিমাণ খুবই কম।
নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী মার্টিন কর্ডিনার জানান, এই উপাদানগুলো প্রমাণ করে যে ধূমকেতুটি অত্যন্ত পুরোনো। যেহেতু নতুন তৈরি হওয়া নক্ষত্রমণ্ডলীতে কার্বন-১৩ বেশি থাকে, যেমনটি আমাদের সৌরজগতে রয়েছে। ২২ জুন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষকদের মতে, ধূমকেতুটি আজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) বছর আগে তৈরি হয়েছিল। ওই সময়কে মহাবিশ্বের ‘কসমিক নুন’ (নক্ষত্র তৈরির সেরা সময়) বলা হয়। এটি সম্ভবত প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন মেঘের ভেতর জমে থাকা অবস্থায় তার শুরুর সময়গুলো পার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন