প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সরকারের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও কেপি অঞ্চল ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের জন্য। দেশটির একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রদেশ গঠনের আলোচনা সম্ভাব্য ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। সরকারি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে নতুন প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে না, কারণ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আলোচনার মধ্যে রয়েছে—নতুন প্রদেশ গঠন করা উচিত হবে কি না, হলে কতটির প্রয়োজন হবে, নাকি এর পরিবর্তে আরও বেশি প্রশাসনিক ইউনিট তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করে সেটিকে আরও ক্ষমতাবান করার বিষয়টিও বিবেচেনা রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা জানান, ১৮তম সংশোধনীর পরিণতি মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় ছিল নতুন প্রদেশ গঠন করা। প্রদেশগুলোতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মুখীন হওয়া অনেক সমস্যা সমাধানে এটি সাহায্য করতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দেয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সকল রাজনৈতিক দলকে নতুন প্রদেশ গঠনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা সমাধানের আহ্বান করেন। তিনি এটিকে দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নতির একমাত্র সমাধান হিসেবে বর্ণনা করেন। মন্ত্রীর এই প্রস্তাবের পর বিষয়টি কার্যকরের দিকে গতি পায়।
অন্য দিকে, দেশটির শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে আছে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও, পাকিস্তান বার কাউন্সিল (পিবিসি) বলেছে যে এই ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই কঠোরভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে, সংসদের মাধ্যমে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাকে ‘ভেঙে পড়া ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার একমাত্র সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত আরও প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে পরবর্তী প্রশ্ন হবে কতগুলো প্রদেশ গঠন করা উচিত। আলোচনায় করাচি ও গোয়াদর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং সিন্ধুর বাকি অংশ একটি একক প্রদেশ হিসেবেই থাকবে বলেও প্রস্তাব উঠেছে। এর পাশাপাশি, বেলুচিস্তানকে দুটি প্রদেশ এবং পাঞ্জাবকে তিনটি প্রদেশে বিভক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কেপি) বিষয়টি জটিল, কারণ সেখানে পূর্বতন ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় অঞ্চলকে (ফাটা) একীভূত করা হয়েছে। পূর্বে ফাটা ও পাটা ব্যবস্থার অধীনে শাসিত এলাকাগুলোকে প্রাদেশিক সাংবিধানিক, আইনি ও বিচারিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্রের মতে, এরপরও খাইবার পাখতুনখাওয়াকে পশতুন ও হাজারা অঞ্চলে বিভক্ত করা হতে পারে।
একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সরাসরি স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে পাঠানো যেতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফের আমলে প্রবর্তিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা যদি ঠিকভাবে চালু থাকতো, তাহলে স্থানীয় সমস্যাগুলো মোকাবেলার জন্য অভিজ্ঞ এবং যোগ্য কাউন্সিলরদের একটি বিশাল দল পাওয়া যেত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন