প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি নতুন এবং সম্প্রসারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই মানচিত্রটি সম্প্রতি উন্মোচিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলেও, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা আপাতত ওই অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করছে না। তাছাড়া, ওই অঞ্চলের বাইরে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও তারা একেবারে নাকচ করেনি।
নতুন প্রকাশিত মানচিত্রে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে। এটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে লেবাননের ভেতরে ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। মানচিত্রে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি এর আগে এপ্রিল মাসের 'ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন' বা বাফার জোন থেকে আরও গভীরভাবে চলে গেছে। ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন' ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিমে সীমান্ত বরাবর লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে প্রায় ৫২টি লেবানিজ গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
নতুন প্রকাশিত মানচিত্রে ইসরায়েল তাদের 'নিরাপত্তা অঞ্চল' লেবাননের কয়েক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে এবং লিটানি নদীর উত্তরে হিজবুল্লাহ ঘাঁটি নাবাতেহ এর কাছের কিছু এলাকার জন্য তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সেনারা ইতোমধ্যে ওই সব এলকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সেখানকার অভিযান চালাচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি সেনারা সেখানকার অঞ্চলগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালানোর পর এখন পর্যন্ত কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি, তারা বৃহস্পতিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, “আইডিএফ সেনারা লেবাননের নির্দিষ্ট এসব এলাকায় অবস্থান করে নিজেদের সেনা এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবেলা করে যাবে।”
ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অঞ্চল থেকে সেনা সরাবে না এবং সেখানে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বুধবার সই হওয়া অর্ন্তর্বতী চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি লেবাননের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্যও সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে গত মার্চ মাস থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসা ইসরায়েল এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননে লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং উদ্বাস্তু সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গভীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগে বৈরুতের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়ে ট্রাম্প চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই হামলার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তেহরান দক্ষিণ লেবনন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার দাবি করেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্পের এই চুক্তিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপর্যাপ্ত মনে করছেন নেতানিয়াহু। সেকারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন