প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।" তবে, এই ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে, এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।" দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। কেননা, "শিশুসহ আলেম-ওলেমাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড তথা গণহত্যা ছিল।" দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলেও তিনি জানান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "কিছু ব্লগার বা নাস্তিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি ইসলামিক গোষ্ঠী বা একটি ইসলামিক গ্রুপকে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য হেফাজতে ইসলামের মতো একটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায় তৎকালীন সরকার।" তিনি আরও জানান, "আমরা মোট ৬১ জন শহীদের তালিকা পেয়েছিলাম। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে।" এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "আজ দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়েছে।" এবং "এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল।" এই দুটি চার্জে ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন