প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-০ গোলের হারের মাধ্যমে ফরাসি ফুটবলের একটি গৌরবময় অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বিদায় নেবেন দিদিয়ের দেশম। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল কোচ হিসেবে দেশমের বিদায় ছিল পূর্ব নির্ধারিত, কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর পূর্বে তিনি ঘোষণা করেছেন যে এটি জাতীয় দলের দায়িত্বে তার শেষ প্রতিযোগিতা হবে। তবে তার বিদায়ের কারণে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কোচিং পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে।
ফ্রান্সের জন্য নতুন কোচ খুঁজে বের করা শুধুমাত্র একজন দক্ষ কোচ নিয়োগের বিষয় নয়। নতুন কোচকে এমন একজন হতে হবে, যিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিভাসম্পন্ন দলকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখতে সমর্থ হবেন এবং বিপুল প্রত্যাশার চাপও সামলাতে পারবেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন আকর্ষণীয় প্রার্থীর নাম আলোচনা সাপেক্ষে উঠে এসেছে।
দেশমের কীর্তিগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার মতো। ইউরো ২০১২-এর পর তিনি ফ্রান্সের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যখন দলের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এরপর তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি ছয়টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ফ্রান্স ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, ইউরো ২০১৬-এর রানার্স-আপ হয়, ২০১৮ বিশ্বকাপ জিতে নেয়, ইউরো ২০২০-এর শেষ ষোলোতে পৌঁছায়, ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে এবং ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে স্থান পায়। দেশমের সাফল্য কেবলমাত্র কোচ হিসেবেই নয়, খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতান এবং ২০০০ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও এনে দেন। তিনি ফুটবল ইতিহাসের সেই তিনজনের একজন যিনি খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জিতেছেন। অন্য দুজন হলেন মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার।
এছাড়া তিনি প্রধান কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের (২০টি) রেকর্ড নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন। এর ফলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বগুলোর একটি হতে চলেছে।
ফ্রান্স জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম হলেন জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং বিশ্বমানের তারকাদের পরিচালনার অসাধারণ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। ফ্রান্সের মতো তারকায় ভরা দলে এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
জিদান খেলোয়াড়দের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মান অর্জন করেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক এবং ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে ড্রেসিংরুমে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। নেতৃত্বগুণ, অভিজ্ঞতা এবং জয়ের মানসিকতা তাকে অনেকের দৃষ্টিতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের আরেক কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরির নামও আলোচনা সাপেক্ষে রয়েছে। কোচিং ক্যারিয়ারে তার উত্থান-পতন থাকলেও ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা দেখিয়েছেন।
ফ্রান্সের বর্তমান দলে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের সমাবেশ রয়েছে। অঁরির খেলোয়াড় উন্নয়ন বিষয়ক অভিজ্ঞতা এই প্রজন্মকে আরও বিশেষায়িত করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি, তার আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনও সমর্থকদের আকর্ষণ করবে, যারা ফ্রান্সকে আরও আক্রমণভিত্তিক ফুটবল খেলতে দেখতে চান।
হার্ভে রেনারকে যদি ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন তারকাখ্যাতির চেয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে তিনি হতে পারেন এক শক্তিশালী প্রার্থী। জাতীয় দলের পরিচালনার বিশেষ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রেনারের মতো অভিজ্ঞ কোচ খুব কমই আছেন। বিভিন্ন মহাদেশে জাতীয় দলের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং স্বল্প সময়ে দলকে সংগঠিত করার দক্ষতার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত কোচ।
ফ্রান্সের মতো শীর্ষ দলের দায়িত্ব নেওয়া নিঃসন্দেহে তার জন্য ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে, তবে টুর্নামেন্টভিত্তিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্রান্সের নতুন কোচ কেমন হবে? ফ্রান্স নতুন করে দল গড়ার পর্যায়ে নেই। তাদের প্রায় প্রতিটি পজিশনে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। বরং নতুন কোচের সবচেয়ে বড় কাজ হবে অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রতিভাকে আবারও একটি শিরোপাজয়ী দল হিসেবে গড়ে তোলা। কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি প্রত্যাশার চাপ সামলানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হয়। ফলস্বরূপ, সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিলে সেটিকে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন কোচকে একদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী তারকাদের সামলাতে হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের তরুণ প্রতিভাদেরও দলে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন