প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও জবাব দেয়নি। তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ সীমার মধ্যে জবাব না দিয়ে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তারিখে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃপক্ষ আদ-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ করে। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের কারণে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাইছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য জবাব দেয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের জবাব দেয়ার কথা থাকলেও আদ-দ্বীন হাসপাতাল এখনও জবাব দেয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এই সময় বাড়ানোর আবেদনের চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো জবাব না পাওয়া যায়, তবে আজকেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুজনিত ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদ-দ্বীন হাসপাতালের আইনি উপদেষ্টা শিশির মনির হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষে দীর্ঘ সময়ের জন্য এসি বন্ধ থাকার কারণে এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেছে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ নিয়মিতের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে অনুমানিক ৫০ জনেরও অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল, যা ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।
এই তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতালের কোনও সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের মধ্যে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। এই সব গাফিলতি ও হাসপাতাল পরিচালনার শর্ত ভঙ্গের জন্যই স্বাস্থ্য অধিদফতর লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন