প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণি অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন একবার বলেছিলেন, ‘প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম’। তিনি ভয়াবহ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই বছরের সম্পর্কের সময় তিনি ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’-এর শিকার হন।
অনুপমা বলেন, ওই সম্পর্কের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র মানসিকভাবেই নয়, শরীরেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও কান্নার কারণে একাধিক শারীরিক জটিলতার মধ্যে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি কিছু সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল তাঁকে।
সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
অনুপমার কথা অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের আগে তিনি ছিলেন স্বাভাবিক ও হাসিখুশি একজন মানুষ, কিন্তু সম্পর্কের সময় ক্রমাগত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণে তাঁর শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়।
এরপর তাঁর শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। প্রথমে প্যানিক অ্যাটাক ও উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দেয়। আচমকাই হাত-পা কাঁপতে শুরু করতেন এবং অনেক সময় নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতেন। তিনি বলেন, নিয়মিত ব্ল্যাকআউটের ঘটনাও ঘটেছিল।
মানসিক চাপের প্রভাব খাওয়াদাওয়ার উপরও পড়েছিল। সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের কারণে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে খাবার খাওয়ার পর প্রায়ই তাঁর বমি হয়ে যেত। ফলে ওজনও দ্রুত কমতে শুরু করে।
শুটিংয়ের সময় তিনি সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তেন। তাঁর ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপতে শুরু করত এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যে, কখনো কখনো শুটিংও বন্ধ রাখতে হতো।
পরে তাঁর চোখের ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিতেও গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কান্নার কারণে গ্রন্থিটি ফুলে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নিচে নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটিকে আবার সঠিক জায়গায় বসিয়ে সেলাই করতে হয়।
‘পরধা’ ছবির প্রচারের সময়ও তাঁর চোখের ফোলা ছিল। সে সময় তিনি বলেন, তাঁর ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল।
শুধু চোখের সমস্যাই নয়, ওই সম্পর্কের অভিজ্ঞতায় শরীরে আরও কিছু জটিলতা এবং ক্ষত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর বিস্তারিত তিনি প্রকাশ্যে আনেননি।
তাঁর মতে, এসব সমস্যা সরাসরি কোনো শারীরিক আঘাতের কারণে হয়নি, তবে সম্পর্কের অভিজ্ঞতা তাঁর শরীর ও মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব থেকে তিনি পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারছেন না।
অনুপমার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জীবনে এর আগে কখনো তাঁর এই ধরনের সমস্যা হয়নি। ওই দুই বছরের সম্পর্কের সময়েই প্যানিক অ্যাটাক, ব্ল্যাকআউট, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের জটিলতার মতো সমস্যা শুরু হয়।
মৌলিকভাবে, তিনি প্রাক্তন সঙ্গীর পরিচয় প্রকাশ করেননি। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সাথে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন উঠেছে, এ বিষয়ে অনুপমা বা ধ্রুব—কেউই কোনো মন্তব্য করেননি।
অবশেষে, সেই কঠিন সময় পেরিয়ে অনুপমা এখন নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন