প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেন এবং রাশিয়া রাতভর পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
জেলেনস্কি বলেন, জাপোরিঝিয়ায় রুশ হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে এবং আরো ১৯ জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোরোনেঝ শহরে হামলা করেছে। সেখানে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা হয়েছে।
রাশিয়ায় ‘অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনাগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। এর একদিন আগে রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তাতারস্তান ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, এটি প্রথম যে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সহায়তা ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে না। তিনি বলেন, ইউক্রেন এবং ইউরোপে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণ যত বাড়বে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেনা যত বেশি ব্যবহার হবে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে।
এতে গ্লোবাল নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জেলেনস্কি একই ভাষণে পশ্চিম সাইবেরিয়ায় রাশিয়ার একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইউক্রেনের বিমান হামলাকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, হামলার মাধ্যমে রাশিয়া এবং রুশ জনগণকে বোঝানো হবে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক।
জেলেনস্কি পূর্বে রাশিয়ার কাছ থেকে উত্তর কোরিয়া সামরিক সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ড রক্ষায় উত্তর কোরিয়া থেকে ৫০ হাজার সেনা পাঠানো হতে পারে।
জাপোরিঝিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, আগুনে জ্বলতে থাকা যানবাহন এবং ভবনের ছবি প্রকাশ করে জানান যে, রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা দিয়ে শহরটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভেও রুশ হামলায় একজন আহত হয়েছেন। রাতে দুইবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাজধানীর উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায়।
ফেদোরভ বলেন, জাপোরিঝিয়ায় হামলার ফলে শিল্পকারখানা, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন অনাবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া রাতভর ১২০টি ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার সংখ্যা এবং প্রতিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে সোমবার, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী গণমাধ্যমকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব নিয়ে ‘চাঞ্চল্যকর শিরোনাম’ প্রকাশ না করার আহ্বান জানায়।
কিয়েভে রুশ হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় হাসপাতালের চিকিৎসক এবং রোগীরা নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। এছাড়াও, খেরসন ও খারকিভে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
সুমি শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি ক্রিভোশেইনকো জানান, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুই নারীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বয়স ৫২ ও ৬৬ বছর। ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হামলায় বেসামরিক যানবাহন, গুদাম এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন এবং বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ওয়াইল্ডবেরিজ এখনও হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি, তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে তাদের স্থাপনাগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছে।
জুলাই মাসেও ওয়াইল্ডবেরিজের কয়েকটি গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক ছোট ও মাঝারি ব্যবসার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। তখন কিয়েভ বলেছিল, রুশরা সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য লজিস্টিকস কেন্দ্র ব্যবহার করছে, এই বিষয়গুলো তাদের লক্ষ্য হয়েছিল। এর মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করার তথ্য ছিল।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার তাতারস্তানে ইউক্রেনের হামলাটি ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক হামলাগুলোর মধ্যে একটি। হামলায় অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাতারস্তানের তানেভো তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই করা ছবিতে দিনের বেলায় আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা দেখা গেছে। এ সময় পেছনে বিমান হামলার সতর্কসংকেতও শোনা যায়। তাতারস্তানে অবস্থিত উজবেকিস্তানের কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন উজবেকিস্তানের নাগরিক ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন