প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ফ্যাক্ট-চেক, তদারকি কার্যক্রম জোরদার এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ থেকে এসেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমানের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং কওমি মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সভা থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যে, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানানো হয়ে।
সভায় বক্তারা বলেন যে, কোনো অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগের আশঙ্কা প্রকাশ করে।
এই সভায় কওমি মাদরাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নম্বরের মাধ্যমে মেসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।
সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসাসমূহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদরাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’র সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন