প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্যারিয়ার শেষের সময়ে এসে যদি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারতেন, তাহলে তার ফুটবল ক্যারিয়ারে হয়তো একটি জাদুকরি পূর্ণতা আসতো। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে পর্তুগালের বিদায়ের ফলে সেই স্বপ্ন অবান্তরই থেকে গেল। মাঠে যখন পর্তুগিজরা হেরে যাচ্ছিল, তখন স্প্যানিশ বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর নাটকীয় গোলে তারা ১-০ ব্যবধানে হার মানে।
৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে যখন শেষবারের মতো বিশ্বকাপ মাঠ ছাড়তে যাচ্ছিলেন, তখন তার নামের পাশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জন্য করা সব সাফল্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। একটি মাত্র ট্রফি না পাওয়ার আফসোস পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর বিশাল অবদানকে কোনভাবেই আড়াল করতে পারে না।
২০০৩ সালে জাতীয় দলে রোনালদো অভিষেকের আগে পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাস ছিল একেবারেই সাধারণ এবং বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের স্বাদ তারা তখনো পায়নি। সময়কালটি ছিল তাদের জন্য এক অন্ধকার। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান লাভ এবং ২০০০ সালের ইউরো সেমিফাইনালে ওঠা ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অর্জন। তবে, সেই সময়ে দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেও বড় মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের পড়ানোর মতো মানসিকতার অভাব ছিল। ঠিক সেই অবস্থায় পর্তুগিজ ফুটবলের ত্রাতা হিসেবে হাজির হন রোনালদো। তিনি পরবর্তী দুই দশকে দলের কাঠামোকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একটি শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রধান পরাশক্তিতে পরিণত করেন।
রোনালদোর হাত ধরে শুরু হয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে সফল এবং সোনালি অধ্যায়। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে গ্রিসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর দিলেন হৃদয়ভাঙা হলেও সেটি ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং অবশেষে ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি হিসেবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা পর্তুগালের জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সাফল্যের এই ধারা এখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে উদ্বোধনী উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের পর ২০২৫ সালেও তারা এই শিরোপা পুনরায় নিজের করতে সক্ষম হয়, যা দলটিকে বিশ্ব ফুটবলের এলিট শ্রেণিতে পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি রোনালদোর ব্যক্তিগত অর্জনগুলো ফুটবল ইতিহাসের পাতায় একটি রূপকথার মতো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ১৪৬টি গোল করেছেন এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করে রেকর্ড ২৩৩টি ম্যাচ খেলেছেন ক্যারিয়ারজুড়ে। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তার আধিপত্য ছিল একেবারে ব্যতিক্রমী; যেখানে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক ১৪টি গোল, সর্বাধিক ৩০টি ম্যাচ খেলা এবং রেকর্ড ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এছাড়া ইউরো বাছাইপর্বে রেকর্ড ৪১টি গোল এবং বিশ্বের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজিরও স্থাপন করেছেন সিআরসেভেন। তাই, একটি সোনালি ট্রফি অধরা থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর রেখে যাওয়া এই লিগ্যাসি চিরকাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অমর হয়ে থাকবে।
সূত্র: গালফ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন