প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এ ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিমানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিদ্যমান ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। সংকট কাটানোর লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি সই করার।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা অনেকগুলো নতুন ফ্লাইট শুরু করেছি। ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক ও সিডনির ফ্লাইট চালু করতে চাই।" এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব গন্তব্যে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ আছে কিন্তু উড়োজাহাজের অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছি না, সেসব রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে প্রতিদিন কয়েকটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু সম্পর্কে তিনি বলেন, "এটি আইকাওর নির্ধারিত মান অর্জনের ওপর নির্ভর করছে।" প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা আছে।
বিমানবহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে ইয়ামিল বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। এই সময় পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখতে লিজে নতুন উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি এ বিষয়ে বসার মাধ্যমেও আলোচনা করবেন।
এরপর তিনি দেশের বিমান খাত নিয়ে সরকারের বিশাল পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, "হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে।" চলতি মাসের ২৫ তারিখে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা প্রদান করবে। পরে বিস্তারিত মূল্যায়নের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি সই করার আশা প্রকাশ করেন। চুক্তি সইয়ের পর তিন মাসের সময় থাকবে কাজে শেষ করতে, সম্ভাব্য সফট ওপেনিংয়ের পরিকল্পনা আগামী ১৬ ডিসেম্বর।
মন্ত্রী সেদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, "কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছুটা সফলতাও এসেছে।" কিন্তু পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সম্প্রতি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বিমানকে আপনারা যে পর্যায়ে দেখতে চান, সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।" সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, "পর্যটন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—সব পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে।" এছাড়া অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বিষয়েও সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে ইউরেনিয়াম পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ফলে বিমানবন্দরটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সরকার। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কিছু ফ্লাইট চালুর চেষ্টাও রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "যাতে বিদেশিরা সহজে যাতায়াত করতে পারেন, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন