প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডানপন্থী নেতাদের নির্বাচনে জয়ের ধারায় যুক্ত হয়েছেন কেইকো ফুজিমোরি। কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কঠোর শাসক আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে। তার বয়স ৫১ বছর।
তিনি প্রায় ২ কোটি ভোটের মধ্যে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে মাত্র কয়েকশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ফুজিমোরির জয়ের ব্যবধান ছিল ৫০ দশমিক ০০২ শতাংশেরও কম।
এখন পেরুতে এই ফলাফলের পর আমেরিকার অন্য দেশগুলোতে, যেখানে উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও ব্রাজিল আছে, মধ্যে মধ্যপন্থী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফুজিমোরির প্রতিযোগিতার জন্য শেষ বড় সুবিধাটি এসেছে প্রবাসীদের প্রদত্ত ভোট থেকে।
তিনি প্রায় ৬০০টির বেশি ভোট সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সানচেজ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোট গণনায় ৫০.২১ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে থাকলেও, ফুজিমোরি প্রবাসীদের ভোটে ৬৩.৪২ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
সামান্য ব্যবধানের কারণে বিতর্কিত ব্যালটগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ফলাফল নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই বিভক্ত নির্বাচন দেশ ও বিদেশে পেরুভিয়ানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
গণনার সময় তিনি প্রাথমিকভাবে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজ তার অবস্থান পরিবর্তন করেন।
তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অদ্ভুত, অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। সানচেজ এক্সে লেখেন, ‘আমাদের জনগণ সতর্ক আছে, ভোট ও গণতন্ত্রকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’
তার দল লিমা অঞ্চলের এক হাজার ৭৫১টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রের ফল বাতিলের জন্য মামলাও করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে অবহেলা হয়েছে।
দলটি আরো দাবি করেছে, বিশ্লেষণে শত শত গণনাপত্রে সন্দেহজনক মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া তারা বলেছেন, দেশব্যাপী এক হাজার ৭৫১টি ভোটকেন্দ্রে ৫৮৪ ধরনের হুবহু পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করা হয়েছে বলে লা রিপাবলিকা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস পারেহা বলেছেন, বিদেশি ব্যালটে কোনো অনিয়ম হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বলেছেন, রবিবারের নির্বাচন বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, সানচেজ নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি। বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, ফুজিমোরির জন্য শাসন করা কঠিন হতে পারে, কারণ তিনি একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বিরোধী দলের মুখোমুখি হতে পারেন।
কেইকো ফুজিমোরি সম্পর্কে বলা যায়, তিনি ১৯ বছর বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি তার বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলবার্তো ফুজিমোরি ছিলেন একজন স্বৈরশাসক। তিনি ২০০০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে যুক্ত ছিলেন। পরে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং জাপানে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে আলবার্তো ফুজিমোরি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। বিশেষ করে, ‘তে গ্রুপো কোলিনা’ নামের ডেথ স্কোয়াডকে গণহত্যাসহ নানা হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেন, যার কারণে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরু শাসন করেছিলেন।
কেইকো ফুজিমোরি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং প্রতি বার দ্বিতীয় দফার ভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। চাঁদাবাজি, অবৈধ স্বর্ণখনন এবং কোকেন পাচার বৃদ্ধির মতো প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো মোকাবিলা করার লক্ষ্যে তিনি সহিংস অপরাধ দমন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফুজিমোরি তার বাবার অনেক স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করলেও কিছু কঠোর নীতি তিনি বজায় রেখেছেন। তার বাবা ক্ষমতায় থাকার জন্য কংগ্রেস ভেঙে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের গ্রেপ্তার করে এবং জালিয়াতিমূলক কাজ করেছিলেন। তবে তিনি বলেছেন, পেরুর একটি নির্ধারিত সময়ের বাইরে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন