প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো’র বিরুদ্ধে বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল প্রত্যাহার, সঠিক বিল প্রণয়ন ও দ্রুত গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে নেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে জমা দেওয়া সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত (ভূতুড়ে) বিদ্যুৎ বিল পুনঃ যাচাই করে ভুল বিল অবিলম্বে বাতিল ও সংশোধন করতে হবে।
এছাড়া নেসকো এর রাজশাহী কার্যালয় থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রচেষ্টার খুবই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশল মশিউর রহমান দাবিসমুহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
এর আগে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার নেতাকর্মীরা রাজশাহী কলেজে শহীদ মিনারে জমায়েত করেন এবং পরে সেখান থেকে নেসকো কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দাখিল করেন।
স্টাফ রিপোর্টার এম এম মামুনের উপস্থিতির মধ্যে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, বাপার সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সাবেক ছাত্রনেতা রায়হান সম্রাটসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক মাস ধরে অনেক সংখ্যক গ্রাহক অস্বাভাবিক, অতিরিক্ত ও বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল পাচ্ছেন।
একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সত্ত্বেও পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত বিশাল বিল আসছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি ও আর্থিক চাপের কারণ হয়েছে।
যখন গ্রাহকরা বিলের অসঙ্গতি নিয়ে নেসকোর অফিসে অভিযোগ করতে যান, তখন অনেকক্ষেত্রে তাদের দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। কোথাও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও অভিযোগ গ্রহণে অনীহা বা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডিং যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না। প্রকৃত ব্যবহার যাচাই না করেই বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। তাই গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা নেসকোর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষ নিজেদের অসহায় ও প্রতারিত অনুভব করছেন, যা নেসকোর প্রতি জনসাধারণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে।
স্মারকলিপিতে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সকল অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত (ভূতুড়ে) বিদ্যুৎ বিল পুনঃ যাচাই করে ভুল বিল অবিলম্বে বাতিল ও সংশোধন করতে হবে।
সঠিক বিল প্রণয়নের জন্য মিটারের প্রকৃত রিডিং গ্রহণ করা নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত বিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয় বা প্রয়োজনীয় প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত সেল গঠন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া মিটার রিডার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার। ভবিষ্যতে বিভ্রান্তিমূলক বিল যাতে আর কোনো গ্রাহক না পান, সে জন্য আধুনিক ও নির্ভুল বিলিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত অতিরিক্ত বিলের ভিত্তিতে কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে, সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। রাজশাহী থেকে নেসকো স্থানান্তর করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুশিয়ারি দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন