ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান, জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি


মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান, জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৮টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলের দীর্ঘ শাসন অবসান হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল পেয়েছে ৭৯টি আসন। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলাফলের কারণে নির্বাচনী অপরাধ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন মোট ভোট বাতিল করে দিয়েছে। সেখানে পুনরায় ভোট হবে ২১ মে, এবং গণনা হবে ২৪ মে।

আরও পড়ুন: জামায়াত ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবে, এটা আগে কেউ মনে করতেন না: শফিকুর রহমান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ১টি, কংগ্রেস ২টি এবং অন্যান্য দল ৩টি আসন পেয়েছে।

এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও তাঁর আসনে হেরে গেছেন।

মমতা ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ হিসাবে পরিচিত। অথচ নিজের ঘরেই তিনি হেরে গিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা, সেখানে তিনি পরাস্ত হয়েছিলেন। এবার সেই আসনে মমতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন এবং এতে তৃণমূলনেত্রীর পরাজয় ঘটলো। এক কথায়, ঘরের মেয়েকে হারতে হলো ঘরেই।

মমতা ভবানীপুর আসনকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি পূর্বে ‘মেজোবোন’-এর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও তিনি পরাজিত হয়েছেন এবং সেই পরাজয়ের প্রতীকও হলেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে?

ভবানীপুর আসনের ফলাফল ঘোষণার আগে নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু আগেই বিজয়ী ঘোষণা হয়েছেন। এবার ভবানীপুর আসনেও বিরোধী দলনেতা জয়লাভ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তার আসনে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে শুভেন্দু সফলতা অর্জন করেছেন।

সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার শুরু থেকেই দেখা গেছে টানটান উত্তেজনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, এমন একটি আভাস সকাল থেকে মিলছিল। গণনার ২০ রাউন্ডে প্রথম রাউন্ড থেকেই স্নায়ুর লড়াই শুরু হয়। প্রথম রাউন্ডে মমতা এগিয়ে ছিলেন, পরবর্তী রাউন্ডে শুভেন্দুর অগ্রগতি ঘটে, এবং পরে আবার মমতা অগ্রসর হন। শুরুতে কয়েকটি রাউন্ডেই এভাবেই চলছিল।

পরে, পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত টানা এগিয়ে ছিলেন মমতা। কিন্তু সপ্তম রাউন্ড থেকে শুভেন্দু তার ভোট বাড়াতে শুরু করেন এবং ব্যবধান হ্রাস করতে থাকেন। শেষপর্যন্ত ষোড়শ রাউন্ডে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ছাপিয়ে যান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালের ২০ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর পূর্ণ করবে। তিনি তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন, কিন্তু এবার বিজেপির কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত ৬ হাজার ছাড়াল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব : ফয়সল এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


জনগণের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব : ফয়সল এমপি

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এস.এম. ফয়সল বলেছেন, "জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা আমার কাছে একটি পবিত্র দায়িত্ব।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কল্যাণ সাধন এবং সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। এলাকার শান্তিতে বসবাস করার জন্য চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং মামলা বাণিজ্য প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো ধরনের অপকর্ম করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

এমপি ফয়সল সোমবার দুপুরে মাধবপুর উপজেলা ও বিএনপি আয়োজিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের করণীয় শীর্ষক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তব্য দেন। সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, সায়হাম কর্টন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সায়হাম নিট কম্পোজিটের এমডি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।

এলাকার অন্যান্যদের মধ্যে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি'র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খান, চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পারভেজ হোসেন চৌধুরী, মীর খুরশেদ আলম, সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল, সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, মাসুকুর রহমান, চৌধুরী ফজলে ইমাম সুমন, যুবদলের আহবায়ক এনায়েতউল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক কবির চৌধুরী, ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ মারুফ মিয়া, মঈন উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিধানসভা নির্বাচন

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় নিশ্চিত করল বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় নিশ্চিত করল বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে।

মোট আসনের মধ্যে ১৪৮টি আসন বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে সাহায্য করবে। ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা গত তিনবারের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে। তবে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বিজেপিকেই বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন।

এতে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে নিজের আসন ভবানীপুরেও হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ ১৮তম রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮২।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। মমতার চেয়ে ১১ হাজার ৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

শুভেন্দু নন্দীগ্রামে আরেকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেছে। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি। যদিও নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে!’

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর হারতে হয়েছিল। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ।

সেই ফল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। পাঁচ বছর পরে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলেও হাইকোর্টে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের হাওরে মাহমুদুল-মেরাজুলরা কৃষিযুদ্ধের ছোট সৈনিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


সুনামগঞ্জের হাওরে মাহমুদুল-মেরাজুলরা কৃষিযুদ্ধের ছোট সৈনিক

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের আতঙ্কের মধ্যে যখন হাওরাঞ্চল বিপর্যস্ত ছিল, ঠিক সেই সময় সোমবার সকালের ঝলমলে রোদ যেন সুনামগঞ্জের কৃষক-কৃষাণীদের মনে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দিল। রোদের দেখা পেয়ে ভোর থেকেই কৃষকরা ধান শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সদর উপজেলার নিয়ামতগ্রামে গিয়ে দেখা যায়- খলায় খলায় শুকোতে দেওয়া ধান, আর সেই ধান সংরক্ষণের জন্য পরিবারের সবাই মিলে নিরলস পরিশ্রম করছে। এখানে শুধু বড়রা নন, স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও কাজে নেমেছে। মাহমুদুল হক (৬) ও মেরাজুল হক (৪) নামে দুই শিশুকে দেখা যায় ধানের বস্তার ওপর বসে থাকতে; পিতা-মাতার সঙ্গে তারা যেন কৃষিযুদ্ধের ছোট সৈনিকের ভূমিকা পালন করছে।

খলায় গিয়ে দেখা যায়, কেউ ধান উড়াচ্ছেন, কেউ ভেজা ধান সরিয়ে রোদে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজন বিহারী দাস, আব্দুজ জহুর, কাজল রানী দাস, ফাহিমা বেগম ও প্রতিমা রানী দাস- সকলের মুখে ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

বিজন বিহারী দাস বলেন, "এখনো অনেক জমি পানির নিচে রয়েছে। সোমবার রোদ ওঠার ফলে খলায় ধান শুকানোর কাজ করাটা সম্ভব হচ্ছে। ঘরে থাকা ভেজা ধান যতটা সম্ভব শুকানোর চেষ্টা চলছে।" তবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ক্ষতির সাথে সরকারের নির্ধারিত হিসাবের কোনো মিল নেই। তার দাবী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব তৈরির উদ্যোগ নেয়া উচিত।

জহুর আলী জানান, পানির নিচে থাকা ধান আর তোলা সম্ভব হবে মনে হচ্ছে না। ধান কাটার শ্রমিকরাও কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না। তারা ধান কাটার বিনিময়ে অর্ধেক ফসল দাবি করছেন, যা কৃষকদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাহিমা বেগম বলেন, তার ১০ কেয়ার জমির মধ্যে মাত্র ৫ কেয়ার ধান কাটতে পেরেছেন এবং বাকি অংশ এখনো পানির নিচে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি সহায়তার কথা শুনে স্থানীয় মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয় যে, তালিকাভুক্তির সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও তিনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য প্রতিমা রানী দাসও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের অর্ধেক ধান দিতে হলে নৌকা ভাড়া ও মাড়াই খরচই উঠবে না। তাই তিনি এই পরিস্থিতিতে পানির নিচে থাকা ধান না তুলেই ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী।

ধান রক্ষার জন্য খলায় অস্থায়ী খুপরি ঘর তৈরি করে রাতেও কৃষকরা পাহারা দিচ্ছেন। তবে তাতেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। কাজল রানী দাস জানিয়েছেন, "গত রাতে খলা থেকে একজনের ধান চুরি হয়ে গেছে।" এতে কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। খলা থেকে বাড়ির দূরত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিদিন ধান আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। এত অভিযোগ-অনুযোগের মাঝে রোদের দেখা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে ফিরে এসেছে। তারা জানিয়েছেন, "কোনভাবে যদি সারা বছরের খাবারের ধান ঘরে তোলা যায়, সেটাই তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।"

সুরঞ্জিত দাস জানান, দেড় কেদার জমির ধান মাড়াই করে সব মিলিয়ে ১০ মণের মতো হবে। তারপরও ধান মাড়াই করতে হচ্ছে, কারণ নিজের ও গবাদিপশুর জন্য অন্তত কিছু খাদ্য জোগাড় করা জরুরি। এত অভিযোগ-অনুযোগের মধ্যেও রোদের দেখা পেয়ে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মনে। তারা বলছেন, "সারা বছরের খাবার যদি কোনোভাবে ঘরে তুলতে পারি, সেটাই বড় পাওয়া।"

এদিকে, জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ২৬ হাজার ৪৭৯ জন কৃষকের ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। কৃষি বিভাগের হিসাবে, জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমির ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, "রোদ ওঠা কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর। যদি কয়েকদিন রোদ থাকে, তবে বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করতে আরও সময় লাগবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস বলছে, সুনামগঞ্জে এখনো বন্যার শঙ্কা বিদ্যমান। আগামী দুই দিনে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরেক মামলায় সাবেক নারী এমপি সফুরা বেগম গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


আরেক মামলায় সাবেক নারী এমপি সফুরা বেগম গ্রেফতার

রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানায় দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৪ মে) রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (পুলিশ ফাইল) আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আলম বাদশা, সাব-ইন্সপেক্টর, কোতয়ালী থানা, আরএমপি, রংপুর এই আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মোঃ রাশেদ হোসাইন আবেদনটিকে মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায় যে, কোতয়ালী থানার মামলা নং-০৯, তারিখ ০৯ মে ২০২৫, জিআর নং-১২২/২৫ (কোতয়ালী) এই মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪/১০৯/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভিকটিম মোঃ রমজান আলী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। মামলার আসামি অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী (৪৬) বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলা লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং লালমনিরহাট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। রবিবার কেন্দ্রীয় কারাগার রংপুর থেকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে আদালত তাকে মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। মামলা সংক্রান্ত আসামির জামিন শুনানির দিন আগামী ৫ মে ধার্য করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%