প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনটির বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়ছে এবং বৃষ্টি হলেই ছাদের পানি ভেতরে পড়ছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউপির এই ভবনটির শৌচাগারগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। পানির কলগুলো ঠিকমতো কাজও করছে না।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ভবনটি সংস্কার করা খুব জরুরি। শোনা যাচ্ছে সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে জুন মাস চলে গেলেও সংস্কার হয়নি।
অন্য দিকে, উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অবস্থাও একই। রং জ্বলে গেছে এবং শৌচাগার ব্যবহারযোগ্য নয়। এই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাও একই কথা বলেন। উল্লেখ্য, তিনি জানান, ‘আমাদের ভবনটি সংস্কার করা খুব প্রয়োজন ছিল। শুনেছি সংস্কারের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংস্কার হয়নি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধারা এবং ধুরাইলসহ হালুয়াঘাটের মোট ছয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
নিয়ম অনুযায়ী, জুন মাসের মধ্যে এ বরাদ্দের টাকায় সংস্কার কাজ করা কথা ছিল। কিন্তু জুন মাসের মধ্যে সংস্কার হয়নি এবং টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর নিয়ম। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, হালুয়াঘাটে সংস্কার কাজ হয়নি তবে টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। তাহলে এই ৬০ লাখ টাকা গেল কোথায়, সেটাই এখন একটি প্রশ্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার অভিযোগ, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দ ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন হালুয়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। দাবি করা হচ্ছে যে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
রবিবার (২ আগস্ট) অভিযোগের অনুসন্ধানে যাওয়া হয় সংস্কারের তালিকায় থাকা ছয় ইউনিয়নের মধ্যে গৃহীত ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর, এবং গাজিরভিটাতে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই চারটি ইউপি ভবনের কোনওটিতেই সংস্কার হয়নি। এমনকি সংস্কারের জন্য বরাদ্দের খবরও জানেন না ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
ধুরাইল ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু অর্থ বছরের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কোনও সংস্কার হয়নি। আমাদের ইউপি ভবনে বহু সংস্কারের প্রয়োজন।’
একই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, ‘সংস্কারের জন্য কোনও বরাদ্দ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে কোন সংস্কার কাজ হতে দেখিনি।’
আবুল হাসেম, সংস্কারের জন্য বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য হলে, এটি একটি খুব অন্যায় কাজ হবে। আমার দাবি, আত্মসাৎ করা টাকা ফিরিয়ে এনে সংস্কার করা হোক।’
কৈচাপুর এবং গাজিরভিটা ইউপি ভবনেও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সেখানে কোন সংস্কার কাজ হয়নি। কৈচাপুর ইউপির চেয়ারম্যান এবং সব সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তবে এ ইউপির হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান জানান, কিছুরই সংস্কার কাজ হয়নি। একই দিন বিকেলে গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ জানান, সম্প্রতি শেষ হওয়া অর্থ বছরে কোনো সংস্কার হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংস্কারের তালিকায় থাকা স্বদেশি এবং জুগলী ইউপি ভবনেও কোন সংস্কার কাজ হয়নি।
সংস্কার না করে ৬০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের কার্যালয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রথমে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে তার কক্ষে ডেকে আনেন।
কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ইউএনও বলেন, ‘গত অর্থ বছরের ৩০ মে এ ছয়টি ইউপি ভবন সংস্কারের জন্য ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। সংস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভবনগুলোকে নতুন করে রং করা। কিন্তু বর্ষাকাল থাকায় রং করা হলে তা উঠে যেতে পারে, সেজন্য সংস্কার করা হয়নি।’
এসময় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৬০ লাখ টাকা পে ওয়ার্ডার করে রাখা আছে, বলে দাবি করেন ইউএনও।
ইউএনও যখন এ বিষয়ে কথা বলতে থাকেন, তখন পাশ থেকে হালুয়াঘাটের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন ইউএনওকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘স্যার বলেন, সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।’ এরপর ইউএনও বলেন, ‘সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ছয়টি ভবনের সংস্কারের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন