মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
০২:৫৬ এম
আগামীকাল বুধবার কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মবার্ষিকী।
আবদুল হাই মাশরেকী অসংখ্য কবিতা ও গানের স্রষ্টা। তাঁর বিখ্যাত গান "আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে - রে তুই আল্লাহ মাঝি বাইয়া যাও রে আমার কাঙ্খের কলসি প্রাণ সখিরে বাবলা বনের ধারে ধারে আমার বাড়ি যাইও বন্ধু"।
তিনি ১৯০৯ সালের ১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাঁকনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈশবকাল থেকেই তিনি গান ও কবিতা রচনা শুরু করেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রথম হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতাকে প্রতিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। কবির নিজ জন্মভূমিতে সকাল ১২ টায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলয়াতনে কবি আবদুল হাই মাশরেকী পরিষদের উদ্যোগে একটি স্মরণসভা, সমাধি জিয়ারত, কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকাস্থ কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্র ও জনপ্রশাসন পত্রিকা যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানও আয়োজন করেছে।
আগামী ১৭ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার ও শনিবার দুইদিনের শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন, সঙ্গীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন সকাল ৯টা হতে ৬টা পর্যন্ত চলবে।
এছাড়া, আগামী ২ থেকে ৩ মে ২০২৬ শনিবার ও রবিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চিত্রশালা মিলায়তনে "মাশরেকরী বন্দনা" অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি বিদেশি নারী সাংবাদিকের অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে, এখনও ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, অপহৃত সাংবাদিকের নাগরিকত্ব, পরিচয় বা অপহরণকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেবল নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগী একজন নারী সাংবাদিক।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহৃত সাংবাদিককে উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরাক সরকার জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে, কারণ বাসে থাকা প্রায় ৪০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের দিগম্বর বাজার এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস দিগম্বর বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পরই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশে থাকা খাদে পড়ে যায়। এর ফলে বাসটি উল্টে যায় এবং অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বাসের গতি কম থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনাকে মোটেও ভয় পায় না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার (১ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি মার্কিন স্থল সেনাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি মনে করি না তারা এমন দুঃসাহস দেখাবে। যদি দেখা যায়, তবে তাদের মুখোমুখি হতে এখানে বিশাল একটি শক্তি প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি। আমরা কেবল নিজেদের রক্ষা করেছি এবং আমরা তা অত্যন্ত শক্তির সাথেই করেছি। এই অঞ্চলে তাদের লোকবল ও সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন; আমাদের হামলায় তাদের রাডার ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এমনকি তাদের শক্তিশালী ‘আওয়াক্স’ (AWACS) নজরদারি বিমান এবং জ্বালানি ট্যাংকারের কী পরিণতি হয়েছে, তা-ও সবাই দেখেছে।’
অতএব, স্থলযুদ্ধের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হয়, তা আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে। একটি স্থলযুদ্ধে আমরা আরও ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যেকোনো ধরনের স্থল হামলা মোকাবিলায় আমরা শতভাগ প্রস্তুত। আমরা আশা করি, তারা এ ধরনের বড় কোনো ভুল করার সাহস দেখাবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার যুদ্ধ এক চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এই অঞ্চলকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের অবস্থান অত্যন্ত সতর্ক এবং কৌশলগত। কেননা জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান বিরোধী যুদ্ধ কোনো দূরবর্তী বিষয় নয়। এটি তাদের ঘরের দরজায় ঘটে চলা একটি আন্তর্জাতিক সংকট, যা আঙ্কারাকে একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আঙ্কারার কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই বিজয়ী হতে পারবে না; বরং এটি পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
দ্য নিউ আরবের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তুরস্কের প্রতিক্রিয়া এ পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্ক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং যৌক্তিক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের শুরু করা 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইরানি ভিকটিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে তুরস্ক সমানভাবে তেহরানেরও সমালোচনা করেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে আঙ্কারা। তারা সব পক্ষের উত্তেজনা বৃদ্ধির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এই বিপজ্জনক সংঘাতের মধ্যে নিজেদের পথ খুঁজছে।
তুরস্ক শুরু থেকেই এই যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। ওমান, কাতার, মিশর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিদের সাথে মিলে তুরস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যেন ইরানের সাথে উত্তেজনা যুদ্ধের মাধ্যমে নয় বরং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তবে আঙ্কারা এখন এমন এক যুদ্ধের মুখোমুখি যা তারা আটকাতে চেয়েছিল।
এখন পর্যন্ত তুরস্ক নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এই যুদ্ধ নিরসনের প্রচেষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তুরস্কের অবস্থানের পেছনের কারণসমূহ
আঙ্কারা যদিও দৃঢ়ভাবে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তবুও এখানে কিছু সূক্ষ্ম দিক আছে। সাদেগ ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাতু কোশকুন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুটা অস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান নিজেই এই পরিস্থিতি ডেকে এনেছে।"
একই সাথে, পারস্য উপসাগরে অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তুরস্ক গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কোশকুনের মতে, "তুরস্ক এখন জিসিসি ভুক্ত বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোকে সংযত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে যেন যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে না পড়ে। ভুলে গেলে চলবে না যে কাতারে তুরস্কের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং অন্যান্য আরব দেশগুলোর সাথেও তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে।"
গবেষক ড. গোকহান এরেলি বলেন, "তুরস্কের প্রধান স্বার্থ হলো যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত হতে না দেওয়া, জ্বালানি সংকট রোধ করা, আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক বোঝা কমানো এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।"
ইরানের রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় আঙ্কারার জন্য এক দুঃস্বপ্ন
ইরান যদি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে, তবে তার ফলাফল নিয়ে আঙ্কারার কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইরানের সাথে ৫০২ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় তুরস্ক ভয় পাচ্ছে যে, সেখানে রাষ্ট্র ভেঙে পড়লে নতুন কোনো শক্তির শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে, আঙ্কারা সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ইরানের অভ্যন্তরে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে ভীত। এই ধরনের পরিস্থিতি তুরস্কের নিজস্ব কুর্দি সংখ্যালঘু ইস্যু এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলতে পারে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ড. পিনার দোস্ত বলেন, "ইরানের সশস্ত্র কুর্দি বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো যদি অস্থিরতা শুরু করে এবং তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেটি হবে তুরস্কের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। তাই তুরস্ক চায় না ইরান যুদ্ধে এতটা দুর্বল হোক যে তারা অভ্যন্তরীণ সংকটে তলিয়ে যায়।"
এছাড়া ইরানি রাষ্ট্রের পতন হলে তুরস্ক হতে পারে শরণার্থীদের প্রধান গন্তব্য। ২০১০-এর দশকে লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থী তুরস্কে আসার ফলে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছিল, আঙ্কারা তা ভোলেনি। ইরানের জনসংখ্যা সিরিয়ার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এই শরণার্থী সংকট হতে পারে আরও ভয়াবহ।
অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব
ইরান যুদ্ধ তুরস্কের অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তুর্কি বাজার থেকে কোটি কোটি ডলার তুলে নিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তুরস্কের চলতি হিসাবের ঘাটতি ৩৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রিজা বলেন, "তুর্কি তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস আমদানি করে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে সরাসরি তুরস্কে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেল-গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়া তুর্কি অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষত।" এছাড়া সার ও কৃষি উপকরণের অভাব তুর্কির কৃষি খাতকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তুরস্কের সক্রিয় কূটনীতি
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তুরস্ক এখন মিশর, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের সাথে মিলে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এই চারটি দেশেরই ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে ইরানের সরাসরি স্থল সীমান্ত এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক রয়েছে। গত ৪, ৯ এবং ১৩ মার্চ তুরস্কে কথিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও তারা পরিস্থিতি বাড়তে দেয়নি, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ প্রমাণ করে।
তুরস্ক ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝাতে চাইছে যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ওয়াশিংটনের জন্যই সমস্যা বাড়বে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই প্রয়োজন।
কোনো বিজয়ী নেই, শুধু ঝুঁকি
পরিশেষে, তুরস্কের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল। শরণার্থী সমস্যা ঠেকানো থেকে শুরু করে জ্বালানি সংকট এড়ানো—সব মিলিয়ে তুরস্ক এই যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই 'জয়' দেখছে না। তাদের মতে, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, এই যুদ্ধ একটি 'লুজ-লুজ' (হার-হার) পরিস্থিতি, যেখানে হার ছাড়া জেতার কিছু নেই। আঙ্কারা এখন মিশর, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের সাথে মিলে একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী ব্লক হিসেবে কাজ করছে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসনকে যুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে আলোচনার টেবিলে আনা যায়। শেষ পর্যন্ত, তুরস্কের এই দূরদর্শী এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একমাত্র পথ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ