প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। নদ খননের মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভাশেষে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পদ স্থগিত হওয়া অন্যান্য দুই নেতা হলেন- জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।
এদিকে, পদ স্থগিতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে, তিন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পদ স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে হরিহর নদ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলামসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই সময় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে মণিরামপুর থানায় মামলা করলেও পরে তা আপস করেন দল দুটির নেতারা।
ওই ঘটনার পর বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা জামায়াত। কমিটির প্রধান ছিলেন- জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। সদস্য ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক।
তারা সরেজমিনে মণিরামপুরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ সম্পর্কে অবহিত হন। তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসে। গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে লিটনের প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারায় অংশগ্রহণের নামে অর্থ কামানোসহ তার নানা বিতর্কিত কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি।
এছাড়া ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম এবং ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জামায়াত এ তিন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত শুক্রবার উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলাম তিন মাস ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য দলীয় পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিদের উপস্থিতি ছিল।
সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা আমির ফজলুল হক ওই সময় ঢাকায় দলীয় বৈঠকে অবস্থান করায় জেলার জামায়াতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিষয়টি প্রথমদিকে চাপা থাকলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
এই বিষয়ে জানতে শাস্তিপ্রাপ্ত সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনকে মোবাইলে কল দিলে তিনি প্রথমে রিসিভ করেননি। এরপর কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের কোনো কথা বলতে চাই না।
তবে, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, মণিরামপুরের তিন নেতার দুই ও তিন মাসের জন্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দীন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দলের ভেতরে কারো বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো অভিযোগ উঠলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে চাই না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন