প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম আহসানুল হক মিলন বলেছেন, মেধার যথাযথ বিকাশে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো।
তিনি শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাত আজ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
মেধার যথাযথ বিকাশও অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শুদ্ধ, মানবিক ও মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা এক সময় বাংলাদেশে পড়তে আসলেও বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছে।
এই প্রবণতা কমিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে শিক্ষা।
স্বাধীন ও অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার যে ব্যয় বহন করে, তা অনেক শিক্ষার্থী উপলব্ধি করে না।
কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা ব্যয় বহন করে।
এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন, যা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণমানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটি দেখতেই আমি এখানে এসেছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করছে, যা দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুসরণীয়।
কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক, গবেষণামুখী ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উন্নয়নের যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতেই আমার এ সফর।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তরিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এবং শিক্ষকদের আরও শিক্ষাকেন্দ্রিক হতে হবে।
সाथে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষা যেন কখনো বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়; বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন