প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান শতাব্দীতে উরুগুয়ে দল বলতে লুইস সুয়ারেজ ও দিয়েগো ফোরলানের নামই সকলেই শোনে থাকে। এই দুই কিংবদন্তী ফুটবলার উরুগুয়েকে পুরো বিশ্ব মঞ্চে পরিচয় করিয়েছেন গেল দুই দশকে। ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ে চতুর্থ হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বকাপের প্রথম দুইবারের বিজয়ীদের জৌলুশ আর নেই। এবার কেপ ভার্দের মতো ছোট দলের বিপক্ষে তারা ড্র করেছে। আর এতে একটি অভাবও ফুটে উঠেছে তাদের। সেই ব্যক্তির নাম লুইস সুয়ারেজ। রবিবার কেপ ভার্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি উরুগুয়ে জাতীয় দল এবং তাদের অন্যতম সেরা আইডল লুইস সুয়ারেজকে ঘিরে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। ১৯৭৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ম্যাচে লুইস সুয়ারেজকে ছাড়া লা সেলেস্তেরা মাত্র একটি জয় পেয়েছে। মিয়ামিতে এই ড্র ২০২৬ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের হারের ধারাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়ার আগে মার্সেলো বিয়েলসার দল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল এবং এখন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার চাপ নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে হবে। এই তথ্যটি আরও বেশি চমকপ্রদ কারণ, এই সময়ে সুয়ারেজকে ছাড়া উরুগুয়ের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়টি এসেছিল ১৯৯০ সালে। যখন লা সেলেস্তে ইতালিতে হওয়া ওই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। এরপর থেকে উরুগুয়ের অন্যান্য সব বিশ্বকাপ জয়েও সুয়ারেজ স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে ছিলেন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই পায়নি উরুগুয়ে। ২০০২ বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ না জিতেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় কিন্তু ২০০৬ সালে আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারায়। এরপর ২০১০ সাল থেকে তারা টানা বিশ্বকাপে খেলছে এবং সুয়ারেজও দলে ছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। উরুগুয়ে জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ চারটি বিশ্বকাপে (২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) খেলেছেন এবং উরুগুয়ের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই ম্যাচগুলোতে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও তিনি সুযোগ পাননি। দল থেকে বাদ পড়ায় এই ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় গ্যালারি থেকে কেপ ভার্ডের বিপক্ষে দলের ড্র করা ম্যাচটি দেখেছেন। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাক্সি আরাউহো এবং কানোবিওর গোলে উরুগুয়ে খেলায় ফিরে এলেও আবার রক্ষণভাগের ভুলের শিকার হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে হেলিও ভারেলার কাছে একটি সমতাসূচক গোল হজম করে। এই ফলাফলের কারণেই দলটি প্রতিযোগিতায় জয়হীন থাকে এবং স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের জন্য চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বাছাইপর্ব যদি আগে থেকেই কঠিন মনে হয়ে থাকে, তবে সুয়ারেজকে ছাড়া দলের রেকর্ড উরুগুয়ের দলটির জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের ইতিহাস এই বিষয়টি প্রমাণ করে যে, উরুগুয়ে যেমন লুইসি টোর উপর নির্ভর করে, তেমনিভাবে অনেক কম দলই আছে যারা ড্র এবং পরাজয়কে জয়ের রূপান্তর করতে ‘একজন’ খেলোয়াড়ের উপর এতটা নির্ভর করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন