প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘২য় নিউইয়র্ক ছোটদের বাংলা বইমেলা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বইমেলার আয়োজন গত ৩০ মে (শনিবার) জ্যামাইকার শাহী কিচেন মিলনায়তনে করা হয়েছিল এবং এতে চার লেখকের বই নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়।
মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় আর চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
মেলা প্রাঙ্গণকে প্রাণবন্ত রাখতে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি সেখানে লেখক-পাঠক আড্ডা, মনোগ্রাহী গল্প বলা (স্টোরি টেলিং), ছড়া-কবিতা আবৃত্তি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।
এবারের মেলার আকর্ষণ ছিল চারজন জনপ্রিয় লেখক—কাজী জহিরুল ইসলাম, ডা. সজল আশফাক, আলম সিদ্দিকী এবং আশিক মুস্তাফা। এই মেলায় সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন নিউইয়র্কে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বাঙালি ও সাহিত্যপ্রেমী।
মেলায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আশিক মুস্তাফার নতুন বই ‘One Little Mother’-এর জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
এছাড়া, মেলার প্রাঙ্গণে ৯০-এর দশকের ঐতিহ্যবাহী খেলনা এবং বিভিন্ন ছবি সংবলিত বিশেষ পোস্টকার্ডের উন্মোচন ও প্রদর্শনী করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে বিপুল কৌতূহল সৃষ্টি করে। মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় ছিল। ছোট্ট সোনামণিরা গল্প বলা, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং বড়দের সঙ্গে তারা নিজেরাও বইয়ের পাতা উল্টে আনন্দ উপভোগ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখক কাজী শামীম আহমেদ। তিনি মেলার এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এই বইমেলা আমাদের নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করার চমৎকার একটি মাধ্যম। আগামীতে এই বইমেলা আরো বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সহযোগিতা থাকবে।”
মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী জহিরুল ইসলাম এবং ফারহানাজ শারমিন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, “দেখতে দেখতে এই বইমেলা আজ দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করল। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই আয়োজন যেন শুধু দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে বরং আগামীতে এর পরিধি আরো বৃদ্ধি পায়। বড় আকারের এই আয়োজনে আমরা শিশুদের আরো বেশি সম্পৃক্ততা বা ইনভলভমেন্ট আশা করি।”
ফারহানাজ শারমিন খান মেলা নিয়ে তার ইতিবাচক অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “এবারের মেলায় চমৎকার কিছু ইংরেজি বই এসেছে। বাংলাদেশের চমৎকার সব বাংলা বই যেন আগামীতে আরো বেশি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে এখানে আসে, আমরা সেই সাধুবাদ জানাই। এর ফলে এখানকার ইংরেজি মাধ্যমে বড় হওয়া ছেলেমেয়েরা এই বইগুলো সহজে পড়তে পারবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো গভীরভাবে জানতে পারবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মেলায় আমন্ত্রিত চার লেখক উপস্থিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের লেখা বই থেকে অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান।
সবশেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পী ফিরোজ মিয়া ও শাহনেওয়াজ নজরুল সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক বিভিন্ন কালজয়ী গানের সুরে সুরে মেলা প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাত ১০টায় এই সফল ও আনন্দঘন মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মিলড্রেড এলির চেয়ারপারসন কাজী শামীমা আক্তার শিমুল। আর আনন্দঘন বইমেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন আফরোজা আখতার মুন্নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন