০১:০৫ এম
মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে ২২ মাস বয়সী শিশু সন্তানটি মহাসড়কে চলে যায়। তাকে বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েন মা।
এ সময় একটি গাড়ি মাকে চাপা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
গুরুতর আহত শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে।
আরও পড়ুন: নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ
শুক্রবার (১৫ মে) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএম গেট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
মায়ের নাম মোছাম্মৎ তারিন (২৮)। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। তার স্বামীর নাম জাকারিয়া নয়ন।
তারা চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় তাদের বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল বিক্রির প্রলোভনে যুবককে ডেকে ছিনতাই, মূলহোতা কাইয়ুম আটক
জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব এলাকায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মোছাম্মৎ তারিন।
তিনি স্বামী, সন্তান নিয়ে বেড়ানো শেষে রাতে স্বামীর মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছিলেন।
এসময় ভাটিয়ারী বিএম গেট এলাকায় হটাত ঝাঁকুনি লেগে তার কোল থেকে শিশু সন্তানটি পড়ে যায়।
দ্রুত ওই মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েন মা তারিন। কিন্তু তখন পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান মাকে চাপা দেয়।
আরও পড়ুন: রগ কাটা অবস্থায় উদ্ধারের পর ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আটক সাবেক স্ত্রী
এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। শিশুটিকে উদ্ধার করে চমেকে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে।
এদিকে, আনন্দ করার জন্য এসে একই সময় স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা স্বামী জাকারিয়া নয়ন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনাস্থলেই আমার স্ত্রী নিহত হন। সন্তানও মৃত্যুর মুখে পড়ে যাওয়ায় আমরা যখন হতাহতদের নিয়ে ব্যস্ত, তখন কিছু অমানবিক মানুষ আমার স্ত্রীর ব্যাগটি চুরি করে নেয়। ব্যাগে মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালংকার এবং বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল।"
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক বলেন, দুর্ঘটনাটি ঘটে মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব ঘুরে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ফিরে আসার সময়।
আরও পড়ুন: তিন তরুণকে বেধড়ক পিটুনি, মামলা করায় চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার সাবেক সহকর্মী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তারিন এবং তার শিশু সন্তান মারা যায়। এই ঘটনাটি আমাদেরকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে। আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন