প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেভি জাহাজে ধর্ষণের অভিযোগ করা এক বেসামরিক নারী ইঞ্জিনিয়ারের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন নিউ জার্সির এক ফেডারেল বিচারক। অভিযোগটি কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত ‘ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিষয়টি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়বে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি করেছিলেন এলসি ডোমিঙ্গেজ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির ব্রিনদিসিতে অবস্থানরত মার্কিন নেভির দ্রুতগতির পরিবহন জাহাজ ইউএসএনএস কারসন সিটিতে কাজ করার সময় জাহাজটির ক্যাপ্টেন তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডোমিঙ্গেজের দাবি, ঘটনাটি তার নিজ কেবিনে এবং কর্মঘণ্টার বাইরে ঘটেছিল।
ডোমিঙ্গেজ ২০২৩ সালে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, জাহাজে থাকা তার চাকরির অংশ হলেও ব্যক্তিগত কেবিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কোনোভাবেই চাকরির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।
অন্যদিকে মার্কিন সরকার যুক্তি দেয়, ডোমিঙ্গেজের কর্মস্থল ছিল জাহাজটি এবং চাকরির কারণে তাকে সেখানে থাকতে হতো। ফলে জাহাজে অবস্থানকালে তার ওপর যে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়তে পারে। এ কারণে দেওয়ানি আদালতের পরিবর্তে কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে সরকার দাবি করে।
শেষ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সিদ্ধান্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। ডোমিঙ্গেজের আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিজের কেবিনে ঘুমন্ত অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকে কোনোভাবেই একজন কর্মীর চাকরির দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
ঘটনাটির বিষয়ে অপরাধমূলক তদন্তও হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস কোস্ট গার্ডের তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া যায় যে, ক্যাপ্টেন এমন এক যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যেখানে সংশ্লিষ্ট নারী সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
মার্কিন নেভির বর্তমান নীতিতে যৌন নির্যাতনকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস বা এনসিআইএস নেভি ও মেরিন কর্পসের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে।
ডোমিঙ্গেজের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কীভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে সংঘটিত অপরাধ এবং কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার সীমারেখা নিয়ে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন