প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে একটি সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন, যার মধ্যে রয়েছে এক পুলিশ সদস্য। এই ঘটনা স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোট-দে-নিস এলাকায় ঘটে, যা শহরের একটি জনবহুল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন সাধারণ নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেই। হামলার ঘটনায় এক নারী পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত, তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার খবর পেতে ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোলাগুলির সম্মুখীন হয়। হামলাকারী একটি ভবনের ভেতর থেকে লম্বা অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালাচ্ছিল। পরে পুলিশের পাল্টা অভিযানে হামলাকারী নিহত হয়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী হামলাটি ওই ব্যক্তির দ্বারা একাই পরিচালিত হয়েছে।
মন্ট্রিয়ল পুলিশের প্রধান ফাদি দাঘের এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটিকে 'একটি ট্র্যাজেডি' এবং 'দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, নিহত পুলিশ সদস্যের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
কোট-দে-নিস এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের অবস্থান বেশি। ওই এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কোশের বাজার এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ রয়েছে। হামলার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ দ্রুত চারপাশ ঘিরে নিয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী, হঠাৎ গুলির আওয়াজে চারদিকে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায়। একাধিক ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দোকান ও রেস্তোরাঁতে ঢুকে পড়ে। পুলিশ অনেককে মাটিতে শুয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়।
হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ ধারণা করছে হামলাকারীর সাথে তথাকথিত ‘ইনসেল’ মতাদর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, ঘটনাটি ইহুদিবিরোধী হামলা কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ প্রধান ফাদি দাঘের সকলকে গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জানান, “তদন্তে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।”
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিকেলের দিকে নিরাপত্তা বলয় ধীরে ধীরে শিথিল করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, হামলকারী এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন