প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় নির্বাচন অফিসে ভোটার হতে এসে মোহাম্মদ মাসুদ (১৯) নামে একজন রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে তিনি ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে আসলে তার দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়ার কারণে তাকে আটক করা হয়।
অটকে কর্মকর্তাদের কাছে জানা গেছে, মোহাম্মদ মাসুদ ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ই-তে বসবাস করছেন। তার বাবার নাম হচ্ছে মো. জোবায়ের এবং মায়ের নাম শাকিলা খাতুন। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের মংডু অঞ্চলে অবস্থিত। জানা যায়, তিনি ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়।
নির্বাচন অফিস সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার হওয়ার জন্য জমা দেওয়া কাগজপত্রে তার নাম মোহাম্মদ মাসুদ থাকলেও বাবার নাম উল্লেখ রয়েছে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং মায়ের নাম শান্তনা আক্তার। পাশাপাশি ঠিকানা হিসেবে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর সাথে সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরসহ নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, খোদেজা খাতুন দারুস-সুন্নাহ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র এবং মা ডেন্টাল কেয়ার অ্যান্ড আইমিত্র নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান জানিয়েছেন, আবেদনকারীর কথাবার্তায় প্রাথমিকভাবে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি বাংলা বলতে পারেন, কিন্তু বাংলা লিখতে পারেন না। পরে দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই এলাকায় এ নামে কোনো লোক নেই। একইভাবে তিনি যে মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মোহাম্মদ মাসুদ নামে কোনো শিক্ষার্থী কখনো উপস্থিত ছিল না।
আবেদনকারী বলেছেন, "প্রাথমিক যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তিনি ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরে তাকে আটক করা হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আটক মোহাম্মদ মাসুদ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, কদ্দুছ অথবা কবীর নামের এক দালাল তাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য তিনি আগাম ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে তাকে গৌরীপুরে এনে একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল। পরে সাগর নামে একজন তাকে নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসে। আটক হওয়ার পর তারা পালিয়ে যায়।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আটক রোহিঙ্গা যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেছেন, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন