প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রধান মূল্যসূচক সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জুলাই মাসের জন্য দেশের বেসরকারি খাতের এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিইআরসির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমায় সেই প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, বিইআরসির প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) প্রতি মেট্রিক টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাত বিবেচনায় গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৫৯১ মার্কিন ডলার। আগের মাসে এই গড় মূল্য ছিল ৬৮০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে গড় দাম ৮৯ মার্কিন ডলার কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যহ্রাসের প্রভাবেই দেশে এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ব্যবস্থায় তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার ৭২ পয়সা ৪৮ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ৭২৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। ফলে জুলাইতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমেছে। এর আগে গত মাসেও ৫৫ টাকা কমানো হয়েছিল। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারেও। দেশের ইতিহাসে গত এপ্রিলে এলপিজির সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে একই মাসের ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পৌঁছে যায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। এরপরের মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় জুন মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সবশেষ জুলাই মাসে আরও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে গত দুই মাসে দুই দফায় মোট ৪১২ টাকা কমেছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম।
অন্যদিকে, অটোগ্যাসের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের মাসের তুলনায় কম। নতুন এ দাম ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন