প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনায় মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার কারণে নানা অপরাধ ঘটছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডও ঘটছে। পুলিশ য dùদ্বমাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে, তাও ব্যবসায়ীসহ মদদদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। সুশীল সমাজের দাবি, বিচারহীনতার অভাবই এসব ঘটনার মূল কারণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্লেখ করেছে যে, তারা তৎপর থাকলেও সামাজিক সচেতনতার অভাব রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত (১ জুন) থেকে (৫ জুন) পর্যন্ত জেলায় চারটি হত্যার ঘটনায় নেত্রকোনা সদরে নারীসহ দুইজন এবং জেলার কেন্দুয়ায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
নেত্রকোনা শহরের কাটলি এলাকায় গত (১ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর স্বামী ও ছেলেও কুপিয়ে জখম হয়। স্থানীয়রা ঘটনাটির সাথে অভিযুক্ত আব্দুর রশীদকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, নেশার জন্যই এ ঘটনাটি ঘটেছে। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, তার ছেলে রিকশা চালাতো এবং তারা মাঝে মধ্যেই তাকে সাহায্য করতো। তবে বিদ্যুতবিহীন রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটলে স্থানীয়রা যদি কিছুটা সচেতন থাকে, তাহলে হয়তো তারা তাকে রক্ষা করতে পারতেন। একই সময়, ওই সপ্তাহে আরও তিনটি খুন হয়েছে দুই উপজেলায়। যে ঘটনায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশা গ্রামে একটি মাদকসেবী যুবক শ্যামলকে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় তার ষাটোর্ধ্ব মা মিনতিকে শাবলের আঘাতে হত্যা করে। পুলিশ তাকেও আটক করে।
এর আগে, গত ২ মে দুর্গাপুরে মাদক সেবন নিষেধ করায় কেলিশ নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মার্চ, এপ্রিল, মে তিন মাসে শিশুদের মধ্যেও আরও তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে জেলার কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায়। আসামিরাও ইতোমধ্যে পুলিশ কর্তৃক ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নেত্রকোনা জেলাজুড়ে।
মারামারি এবং হানাহানি ঘটেই চলছে। সাধারণ মানুষের ধারনা, মাদকের সহজলভ্যতা এবং বিচার না হওয়ার অভাবই এই ঘটনাগুলোর প্রধান কারণ।
এদিকে, পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চললেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। যারা গ্রেফতার হচ্ছে, তারাও জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে সমাজে মাদকের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জানা গেছে, জেলা পুলিশের অভিযানে গত ৫ মাসে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ভারতীয় মদ এবং ইনজেকশনসহ মোট ৩ কোটি ৮২ লাখ ১১ হাজার ৫৭০ টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভিযানে গত ৫ মাসে ২৯২ টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছে ৪৩০ জন।
জনবল সংকটের কারণে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত ৫ মাসে ৮৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫০ টাকার মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৬৬০ টিরও বেশি অভিযানে ১২১ টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩৬ জনকে।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, স্কুল পর্যায়ে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে এবং মাদকের সহজলভ্যতা মূল কারণ হিসেবে উথ্থাপন করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। শহরের মধ্যে নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। তবে যদি আইন বাস্তবায়নের যথাযথ ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে এই মাদক এত বিস্তার লাভ করতে পারতো না।"
এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া বলেন, ‘যারা অপরাধী, তারা সাজা পেলেও অনেকে অপরাধ না করে আটক থাকতে পারে, এটি কাম্য নয়। একজন বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করছেন, তারা জামিন নিয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আইন প্রয়োগ করেও মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমাজে মাদক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।’
এটি একটি সমাজিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলছেন, ‘সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যদি সবাই নিজের দায়িত্বগুলো সমন্বিতভাবে পালন করে, তাহলে এই ব্যাধি নির্মূল হতে পারে।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মাদকের সূত্রপাত হচ্ছে। এ জন্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রের সব অর্গান এই প্রচেষ্টায় বিধৃত থাকতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক ক্যাম্পেইনও চালানো হচ্ছে। সচেতনতা পুরো সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
সমাজের সহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজের সহিষ্ণুতা ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা একসাথে কাজ করলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন