প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুজব, বিভ্রান্তি এবং অপতথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধের লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে 'বাংলাফ্যাক্ট' অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এছাড়াও সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর-পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৩০৬টি বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টিরও বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি এও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে।
একই প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ২০২৪ সালের পয়লা অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ক ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণেই গুজব মোকাবিলা, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ৬৮টি তথ্য অফিসের মাধ্যমে সারা দেশে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জনবহুল স্থানে, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, আলোচনা সভা এবং মতবিনিময় সভা আয়োজন, মাইকিংসহ গণসচেতনতামূলক বিভিন্ন ধরনের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন