প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাহারা মরুভূমির তীব্র দাবদাহ এবং পানির অভাবে অন্তত ৪৯ জন যাত্রী তৃষ্ণায় বুক ফেটে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে আফ্রিকার দেশ নাইজারের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায়, যখন তাদের গাড়ি বিকল হয়ে যায়। যাত্রীরা আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির বুকে আটকা ছিলেন।
নাইজারের আগাদেজ প্রদেশের গভর্নরের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নিহতরা মালির একটি ধর্মীয় উৎসব শেষ করে ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন। মরুভূমির অত্যন্ত প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রীদের সংকটময় অবস্থার কারণে তারা সঙ্কটে পড়েন, যেহেতু ওই অঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রা এবং পানির কোনো উৎস ছিল না। গাড়িটি বিকল হওয়ার পর অভিযাত্রী, চালক এবং তার সহকারী মিলিত হয়ে কয়েকদিন ধরে মেরামতের চেষ্টা করেন। যদিও তাদের কষ্ট ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ গিয়েছে। এরপর, তাদের সঙ্গে থাকা পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর একে একে সবাই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন।
এই বিপর্যয়ের মধ্যে অলৌকিকভাবে দুজন যাত্রী বেঁচে আসেন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হাঁটলেন এবং আসামাকা সীমান্তে পৌঁছলেন। এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচল ট্রাকটির নিচে এবং আশপাশ থেকে অনেক নিথর দেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মরুভূমির ওই এলাকায় স্বজনহীন এই ভুক্তভোগীদের গণকবর দেওয়া হয়।
গভর্নর জানিয়েছেন, ট্রাকটি মালির তেলহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু পরে তা পূর্বনির্ধারিত রুট থেকে অনেকটা বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের দাফন শেষে ফেরার পথে উদ্ধারকারী দলটি আরও একটি বড় বিপর্যয় রোধ করেছে। তারা মরুভূমির অন্য একটি অংশে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে তিন দিন ধরে আটকে থাকা একটি ট্রাকের সন্ধান পেয়েছে। ওই ট্রাকে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়া যাত্রীদের দ্রুত পানি বিতরণ করা হয় এবং তাদের গাড়িটি মেরামত করে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, আফ্রিকার এই মরুভূমি অঞ্চল ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নিয়োজিত তরুণদের জন্য একটি প্রধান যাতায়াত পথ। গভর্নর মন্তব্য করেছেন যে, এই ট্র্যাজেডি এমন তরুণদের বিপজ্জনক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে, যারা উন্নত জীবনের আশা নিয়ে দুর্গম পথে যাত্রা করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন