প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সরকার।
এটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাকার্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করার সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সচিব প্রসেতিও হাদি জানান, পেরি ওয়ারজিয়ো ২০১৮ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’র গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ওয়ারজিয়োর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। পেরি ২৫ জুলাই দেওয়া পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ বিষয়ে আর কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
প্রসেতিও হাদি আরও বলেন, প্রায় সাত বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট পেরি ওয়ারজিয়োকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পেরির নিষ্ঠা ও অবদানের সর্বোচ্চ প্রশংসা করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ উপ-গভর্নর ডেস্ট্রি দামায়ান্তিকে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ বর্তমানে তীব্র চাপে পড়েছে।
দেশটির আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপিয়াহ প্রায় ৭ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে এবং এটি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য চলতি বছরে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া নীতিগত সুদের হার মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলেও সরকারের ভর্তুকির ব্যয় বেড়ে গেলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
দেশটিতে জুন মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে। অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর দাবি জানায়।
বিশেষ করে, বহু বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচির ব্যয় কমানোর দাবি তারা তোলে। পরে সরকার ওই কর্মসূচির পরিধি সীমিত করে।
এ ছাড়া ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা তীব্র সমালোচনা করেন।
চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারের মূল্যমান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন