প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রামীণ অর্থনীতি এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ, শতভাগ স্যানিটেশন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরে সড়ক, সেতু, গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন এবং সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনশীলতা শক্তিশালী করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য আরও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে বর্ষা মৌসুমের আগেই খাল পুনঃখনন, ড্রেন সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নগর এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে অবকাঠামো, পানি ও স্যানিটেশন খাতে একত্রিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সারা বছর চলাচলযোগ্য সড়ক সুবিধার আওতায় এসেছে এবং এটি পর্যায়ক্রমে ১০০ শতাংশে উন্নীত করতে পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও পানি শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে সার্বজনীন নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রাম। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ গ্রামে বসবাস করেন এবং তাদের স্বাবলম্বী করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পরামর্শসেবা সম্প্রসারণ, ২০০টি উপজেলায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম এবং সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্রঋণ ও নারী উদ্যোক্তা ঋণ ব্যবস্থার সংস্কার ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ বাস্তবায়নে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে সুশাসন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এজন্য ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারী ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সুষম ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করা হবে।
সূত্র : বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন