প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ব্যবহারের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বিমানের কর্মকর্তার সহায়তায় ইতালিগামী ফ্লাইটে উড়ে গিয়েছিলেন তিন যাত্রী। জাল শেনজেন ভিসায় ইতালি পৌঁছানোর পর দুইজন ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার মোহাম্মদ আখলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে জামালপুর থেকে করা হয় তার গ্রেপ্তার, যা সিআইডি কর্তৃক সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা।
বদরুল আলম মোল্লা জানালেন, তারা তিনজন ২৬ মে বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। রোম বিমানবন্দরে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস জাল শেনজেন ভিসাসহ ধরা পড়েন। আরেকজন ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর ইতালিতে ঠিকভাবে প্রবেশ করায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি সিআইডি। দেশে ফেরত পাঠানোর পর ২৮ মে তারা বিভিন্ন সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ওই মানবপাচার চক্রের তথ্য উন্মোচন করেন। পরবর্তীতে ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার তদন্তে সিআইডি বিমানের গ্রাউন্ড অফিসারকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, দুর্ভাগ্যক্রমে ইমিগ্রেশনে এবং বোর্ডিং পাসের কোথাও এই যাত্রীদের ধরা সম্ভব হয়নি। প্রথমে তারা নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। যেহেতু সেখানে যেতে ভিসার প্রয়োজন নেই, তারা সেই বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। যদিও বোর্ডিং পাসটি আসল, কিন্তু ওই ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় তাদের নাম ছিল না।
ঘটনার সময়ের ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজের বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিআইডির ওই কর্মকর্তা জানান, বোর্ডিং পাস হাতে পাওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়নি। তারা স্টাফ গেটে পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে বের হয়ে যায়, যেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান ছিল। তখন একজনের কাছ থেকে ইতালির বোর্ডিং পাস, টিকিট এবং ভুয়া ভিসা সংগ্রহ করে।
তিনি যোগ করেন যে, পরে তারা নেপালের বোর্ডিং পাস দিয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর দেখা যায় যে, বিমান বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা তাদের সহায়তা করেছেন। তারা এক পর্যায়ে ওয়াশরুমে চলে যায়, যেখানে সিসি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে ছিল। সেখানে গিয়ে তারা জাল শেনজেন ভিসাটি পাসপোর্টে সংযুক্ত করে। জাল ভিসায় বিমান ওঠার সময় আইএনএস গেটে গিয়ে গ্রাউন্ড অফিসার আখলাসুর তাদের পার করেন। যেহেতু তাদের ইমিগ্রেশন হয়েছিল নেপালের বোর্ডিং পাস দিয়ে, তাই শুধু আইএনএস গেটটি ব্যবহার করতে হয়েছিল। আখলাসুরের সহায়তায় তারা গেট পার হয়ে ইতালিতে পৌঁছেছিলেন। এরপর, ইতালিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ইমিগ্রেশন পুলিশ দুইজনের জাল ভিসা শনাক্ত করে এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
তিনি জানান, মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে, এর মধ্যে বিমানের আরেক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাকেসহ অন্যান্য তদন্তে সংযুক্ত ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে। এই দালাল চক্রের পাশাপাশি বিমান সংস্থা কিংবা টিকিটিং এজেন্সি কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মকর্তাদের মধ্যেও আমরা নজরদারি রাখব। আমাদের সরকারি কর্মকর্তা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা সিভিল এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের চেষ্টা করার সময় আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন আখলাসুর। জামালপুর থেকে আনা হচ্ছে তাকে, এরপর আদালতে পাঠানো হবে। অন্য কোন ঘটনায় সে মুখ খুলেনি। এ ধরনের প্রতারণা রোধে ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে বোর্ডিং পাসের তালিকার সমন্বয় জরুরি।
তিনি বলেন, এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ইমিগ্রেশন পুলিশের সমন্বয়হীনতা এসব ঘটনার জন্য দায়ী। আর শুধু ইমিগ্রেশন পুলিশ নয়, সেখানে ৩০টি বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। আমরা যদি যেকোনো সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত অপরাধ প্রমাণিত করতে পারি, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন